CWG 2026: কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত। শনিবার ১০ম দিনে রিংয়ে ভারতীয় বক্সারদের জয়জয়কার। মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগে দুরন্ত লড়াই করে স্বর্ণপদক জিতলেন প্রীতি পাওয়ার। এর কিছু পরেই ভারতের পদকভাণ্ডারে আরও একটি সোনা যোগ করেন জেসমিন লাম্বোরিয়া। দুই ভারতীয় বক্সারের এই সাফল্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার উজ্জ্বল হল দেশের বক্সিং। এর পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্সে পুরুষদের ট্রিপল জাম্প ইভেন্ট থেকেও এসেছে জোড়া সাফল্য। ফলে জোড়া সোনা ও ট্রিপল জাম্পের রুপো-ব্রোঞ্জ-সহ ভারতের মোট পদক সংখ্যা গিয়ে পৌঁছাল ২৭-এ, যার মধ্যে রয়েছে ৭টিই স্বর্ণপদক।
বক্সিংয়ে প্রথম সোনা

মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগের ফাইনালে প্রীতি পাওয়ারের প্রতিপক্ষ ছিলেন কানাডার স্কারলেট সাভানা ডেলগাডো। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী বক্সিং করেন ভারতীয় তারকা। আগ্রাসী বক্সিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। প্রথম রাউন্ডে পাঁচ বিচারকই ১০-৯ ব্যবধানে এগিয়ে রাখেন ভারতীয় বক্সারকে। দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই চিত্র দেখা যায়। স্কোরকার্ডে ১০-৯ এগিয়ে ছিলেন প্রীতি পাওয়ার। সেই রাউন্ডেই নকডাউন হন ডেলগাডো। ফলে শেষ রাউন্ডের আগে ২০-১৮ ব্যবধানে এগিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় ছিলেন ভারতীয় বক্সার। শেষ রাউন্ডে আর কোনও ঝুঁকি নেননি প্রীতি পাওয়ার। ঠান্ডা মাথায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সোনার পদক নিশ্চিত করেন। তৃতীয় রাউন্ডে ডেলগাডো আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও প্রীতি পাওয়ার অসাধারণ সংযম ও কৌশলের পরিচয় দেন। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে নিজের লিড অটুট রেখে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের বক্সিং দলের প্রথম স্বর্ণপদক এনে ইতিহাস গড়লেন প্রীতি পাওয়ার।
সোনা জিতে প্রীতি পাওয়ার বলেন, 'অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতের হয়ে আমি প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছি। তবে এটা কেবল শুরু মাত্র। আসন্ন প্রতিযোগিতাগুলোতেও ভারতের হয়ে সেরাটা দিতে বদ্ধপরিকর। আশা করি আমরা ভালো পারফরম্যান্স করব। আমার বাবা-মা খুব খুশি। গোটা ভারতই খুশি। সবাই গর্ববোধ করছে। স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, বিএফআই এবং আর্মি স্পোর্টস ইনস্টিটিউটকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনাদের সকলকে সমর্থন করার জন্য ধন্যবাদ। এই পদক দেশকে উৎসর্গ করছি।'
দাপুটে লড়াইয়ে এল দ্বিতীয় সোনা
{{/usCountry}}সোনা জিতে প্রীতি পাওয়ার বলেন, 'অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতের হয়ে আমি প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছি। তবে এটা কেবল শুরু মাত্র। আসন্ন প্রতিযোগিতাগুলোতেও ভারতের হয়ে সেরাটা দিতে বদ্ধপরিকর। আশা করি আমরা ভালো পারফরম্যান্স করব। আমার বাবা-মা খুব খুশি। গোটা ভারতই খুশি। সবাই গর্ববোধ করছে। স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, বিএফআই এবং আর্মি স্পোর্টস ইনস্টিটিউটকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনাদের সকলকে সমর্থন করার জন্য ধন্যবাদ। এই পদক দেশকে উৎসর্গ করছি।'
দাপুটে লড়াইয়ে এল দ্বিতীয় সোনা
{{/usCountry}}ভারতের সাফল্যের হাসি আরও চওড়া করেন ২৪ বছর বয়সি জেসমিন লাম্বোরিয়া। মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগের ফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞ মাইকেলা ওয়ালশের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। প্রথম রাউন্ডেই পাঁচ বিচারকের মধ্যে তিনজনের সমর্থন পেয়ে এগিয়ে যান ভারতীয় বক্সার। দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই চিত্র। ২০-১৮ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ রাউন্ডে ওঠেন তিনি। শেষ ৩ মিনিটে কোনও ঝুঁকি নেননি জেসমিন লাম্বোরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৫-০ ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেন ভারতীয় বক্সার।
তবে ৫৫ কেজি বিভাগে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার জাই ডিক্সনের কাছে হেরে গেলেন জাদুমণি সিং মান্দেংবাম। ফলে ব্রোঞ্জ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হল তাঁকে। শুধু বক্সিং রিং নয়, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডেও সাফল্যের মুখ দেখেছে ভারত। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো জিতেছেন। ব্রোঞ্জ এসেছে সেলভা প্রভু থিরুমারনের হাত ধরে। কমনওয়েলথ গেমসের শুরুতেই এমন দাপুটে পারফরম্যান্স ভারতের পদক-অভিযানে বাড়তি গতি এনে দিল। সোনার জোড়া হাসিতে তাই দিনের শুরুটাই সুপারহিট ভারতের। এদিন আরও একাধিক ইভেন্টে পদক আসতে পারে। বক্সিংয়ে ভারতের পদকজয়ের সম্ভাবনা আরও প্রবল, কারণ ফাইনাল রাউন্ডে আরও ৮ জন ভারতীয় বক্সার রিংয়ে নামতে চলেছেন।
ব্রোঞ্জ থেকে সোনা
হরিয়ানার ভিওয়ানি জেলার বাসিন্দা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত জেসমিন লাম্বোরিয়া ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। চার বছর পর সেই সাফল্যকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এবার স্বর্ণপদক জিতে নিজের কেরিয়ারে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
ভারতীয় বক্সিংয়ের বড় বার্তা
একদিনে দুই ভারতীয় মহিলা বক্সারের স্বর্ণজয় শুধু পদকসংখ্যা বাড়ায়নি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় বক্সিংয়ের ধারাবাহিক উন্নতিরও প্রমাণ দিল। প্রীতি পাওয়ার ও জেসমিন লাম্বোরিয়ার এই সাফল্য আগামী দিনের ভারতীয় বক্সারদের কাছে বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে।