...
...
Next Story

Indian Air Force Officer Bravery: কলাইকুন্ডার আকাশে ৪ পাক ফাইটারকে তছনছ করেন, বাঁচান কলকাতাকে, প্রয়াত ভারতের সেই 'হিরো'

Indian Air Force Officer Bravery: পশ্চিমবঙ্গের কলাইকুন্ডার আকাশে চারটি পাকিস্তানি ফাইটার জেটকে তছনছ করেছিলেন। বাঁচিয়েছিলেন কলকাতাকে। প্রয়াত হলেন ভারতীয় বায়ুসেনার সেই 'হিরো' তথা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরন কুক।

Published on: Sep 19, 2026, 15:35:49 IST
Advertisement

Indian Air Force Officer Bravery: কলাইকুন্ডার আকাশে চারটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানকে তছনছ করে দিয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় একদিনেই মেদিনীপুরের আকাশে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন একটি স্যাবার যুদ্ধবিমানকে। বিধ্বস্ত করেছিলেন আরও দুটিকে। তাড়া করে আরও একটিকে ভাগিয়েছিলেন। প্রয়াত হলেন ভারতীয় বায়ুসেনার সেই ‘হিরো’ তথা ভারতীয় বায়ুসেনার বীরচক্র প্রাপক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরন কুক। যিনি ভারত তো বটেই পুরো বিশ্বের আকাশপথে ‘ডগফাইটের’ ইতিহাসে চিরকালের জন্য অমর হয়ে থাকবেন।

‘তাঁর সাহসিকতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরন কুক। (ছবি সৌজন্যে, ভারত রক্ষক ও ভারতীয় বায়ুসেনা)
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরন কুক। (ছবি সৌজন্যে, ভারত রক্ষক ও ভারতীয় বায়ুসেনা)

সেই বীর যোদ্ধার প্রয়াণের পরে বায়ুসেনার তরফে বলা হয়েছে, ‘বীরচক্র প্রাপক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলফ্রেড টাইরোন কুকের প্রয়াণে ভারতীয় বায়ুসেনার সকল সদস্য গভীর শোকপ্রকাশ করছেন। সামরিক বিমানের ইতিহাসে সেই যুদ্ধবীরের সাহসিকতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যিনি ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় অসামান্য বীরত্বের নিদর্শন রেখেছিলেন।’

সেইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে বলা হয়েছে, 'কলাইকুন্ডার আকাশে হওয়া তাঁর সেই কিংবদন্তি ডগফাইট আকাশপথে আক্রমণাত্মক লড়াই ও অটল সংকল্পের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে। অসামান্য বীরত্ব, রণকৌশলগত দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার তোয়াক্কা না করার জন্য তাঁকে বীর চক্র সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।'

কলাইকুন্ডায় তাণ্ডব চালিয়েছিল পাকিস্তানি বায়ুসেনা

আর পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৬৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের সকালে। সেদিন সকালে অতর্কিতে খড়্গপুরের কাছে কলাইকুন্ডা বায়ুঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানের পাঁচটি স্যাবার যুদ্ধবিমান। আচমকা হামলায় মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল কলাইকুন্ডা। আর সেই সাফল্যের সুবাদে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে চলে গিয়েছিল পাকিস্তান।

সেই রেশ ধরে কলাইকুন্ডায় হামলা চালাতে এসেছিল পাঁচটি এফ-৮৬ পাকিস্তানি স্যাবার যুদ্ধবিমান। কিন্তু এবার সতর্ক ছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ রেডারে 'ব্লিপ' দেখতে পেয়েছিলেন রেডার অফিসার স্কোয়াড্রন লিডার 'মামা' সাহনি। সঙ্গে-সঙ্গে কলাইকুন্ডা বায়ুঘাঁটিকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেইসময় বায়ুঘাঁটির ৬০ মাইল উত্তরের আকাশে ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার ১৪ স্কোয়াড্রনের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুক এবং ফ্লাইং অফিসার সুবোধচন্দ্র মামগেন। তাঁদের অবিলম্বে বায়ুঘাঁটিকে ‘ডিফেন্ড’ করতে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: Greenland Deal: গ্রিনল্যান্ডকে US দেবে ‘স্থায়ী নিরাপত্তা কভার’, হয়ে গেল ঐতিহাসিক চুক্তি

১ বনাম ৪: বীরত্বের অসামান্য কাহিনী

তারপর যা হয়েছিল, তা ভারত তো বটেই, পুরো বিশ্বের যুদ্ধ ইতিহাসে চিরকালের মতো ঠাঁই পেয়ে গিয়েছে। আকাশে ‘ডগ ফাইটের’ ইতিহাস কখনও সম্পূর্ণ হবে না ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুকের বীরত্বের কাহিনী ছাড়া। সেদিন তিনি চারটি এফ-৮৬ পাকিস্তানি স্যাবার যুদ্ধবিমানকে নিশানা করেছিলেন। মাঝ-আকাশেই চুরমার করে দিয়েছিলেন প্রথম স্যাবারকে। মৃত্যু হয়েছিল পাকিস্তানি পাইলটের।

আরও পড়ুন: North Korea Nuclear Test: ১৩৯৯ টি ভূমিকম্পের নেপথ্য কারণ উ.কোরিয়ার নিউক্লিয়ার টেস্ট? বিস্ফোরক দাবি গবেষণায়

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুকের হাতে বিধ্বস্ত হয়েছিল দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্যাবারও। মেদিনীপুরের আকাশে চতুর্থ স্যাবারকে তাড়া করেছিলেন। এমনকী নিজের অস্ত্র ফুরিয়ে গেলেও পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানকে তাড়া করতে থাকেন। তার জেরে কলাইকুন্ডায় দ্বিতীয়বার হামলা না চালিয়েই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তানি এফ-৮৬ যুদ্ধবিমান। অনেকের মতে, সেদিন কলাইকুন্ডা বায়ুঘাঁটির পাশাপাশি কলকাতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুক।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks