বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন আমেরিকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা। সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকে ‘মিথ’ বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এফসিআরএ সংশোধনের উদ্দেশ্য বিদেশি অনুদান বন্ধ করা নয়। বরং বিদেশি অর্থের প্রবাহে আরও স্বচ্ছতা আনা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং নিয়মকানুন আরও স্পষ্ট করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

এক্স-এ ধারাবাহিক পোস্টে কোয়াত্রা দাবি করেন, এফসিআরএ ভারতীয় নাগরিক বা আইন মেনে চলা নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলিকে বিদেশি অনুদান গ্রহণে নিষেধ করে না। দেশের হাজার হাজার সংগঠন বর্তমানে এফসিআরএ-র অধীনে নথিভুক্ত এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, গবেষণা ও মানবিক কাজের জন্য নিয়মিত বিদেশি অর্থ পেয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।
এফসিআরএ নিয়ে প্রথম বিতর্কের জবাবে কোয়াত্রার বক্তব্য, ভারত নাগরিক সমাজের জন্য বিদেশি সাহায্য বন্ধ করতে নতুন আইন তৈরি করছে—এই ধারণা সঠিক নয়। তাঁর মতে, জনজীবন ও রাজনৈতিক পরিসরে বিদেশি অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। বিশ্বের একাধিক গণতান্ত্রিক দেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
ভারতে এফসিআরএ-র ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, ১৯৭৬ সালে প্রথম এই আইন চালু হয়েছিল। পরে ২০১০ সালে তা আরও আধুনিক কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হয়। ২০১৬, ২০১৮ এবং ২০২০ সালে আইনে একাধিক সংশোধন আনা হয়। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের সংশোধনী বিল ও সংশ্লিষ্ট বিধিও সেই ধারাবাহিকতার পরবর্তী পদক্ষেপ। এর লক্ষ্য আরও স্বচ্ছতা, উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার নিয়ম তৈরি করা।
এফসিআরএ-র কারণে এনজিও এবং দাতব্য সংস্থাগুলির কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে—এই অভিযোগও খারিজ করেছেন কোয়াত্রা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বিদেশি অনুদানের পরিমাণ বরং বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবর্ষে নথিভুক্ত সংগঠনগুলির পাওয়া বিদেশি অনুদানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২.৬৭ বিলিয়ন ডলার।
{{/usCountry}}এফসিআরএ-র কারণে এনজিও এবং দাতব্য সংস্থাগুলির কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে—এই অভিযোগও খারিজ করেছেন কোয়াত্রা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বিদেশি অনুদানের পরিমাণ বরং বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবর্ষে নথিভুক্ত সংগঠনগুলির পাওয়া বিদেশি অনুদানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২.৬৭ বিলিয়ন ডলার।
{{/usCountry}}কোয়াত্রা আরও জানান, ভারতে তিন মিলিয়নেরও বেশি এনজিও রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৪,৪৫০টি সংগঠনের এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। অর্থাৎ নাগরিক সমাজের বিপুল সংখ্যক সংগঠন এই আইনের আওতার বাইরে। তাঁর বক্তব্য, বিদেশি অনুদান, গবেষণা অনুদান বা মানবিক সাহায্য গ্রহণে এফসিআরএ সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। সংগঠনগুলিকে মূলত নথিভুক্ত হওয়া, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অর্থ গ্রহণ এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তার হিসাব দেওয়ার নিয়ম মানতে হয়।
কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এফসিআরএ তৈরি করা হয়েছে—এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রাষ্ট্রদূত। তাঁর দাবি, আইনটি ধর্ম, সম্প্রদায় বা মতাদর্শ নির্বিশেষে সব সংগঠনের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। বিভিন্ন ধর্মের সংগঠনের ধর্মীয় শিক্ষা, উপাসনাস্থলের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দাতব্য কাজের জন্য বিদেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি।
সবশেষে ভারতকে এই ধরনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে তুলে ধরার দাবিও খারিজ করেন কোয়াত্রা। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকায় ১৯৩৮ সাল থেকেই FARA এবং ২০১০ সাল থেকে FATCA রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ২০১৮ সালে, কানাডা ২০২৪ সালে একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কার্যকর হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও বর্তমানে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে।
ফলে এফসিআরএ সংশোধনী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করে কোয়াত্রার বার্তা—বিদেশি অনুদান বন্ধ নয়, বরং তার প্রবাহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য।