যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালীর কাছে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে হরমুজের কাছে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীকে একে অপরের খুবই কাছে কাজ করতে দেখা গেল। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইরানের বন্দর থেকে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের দাবি, হরমুজের ওপর এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এরই মাঝে ইন্টেল ল্যাবসের সঙ্গে যুক্ত ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট ড্যামিয়েন সাইমন এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, 'সম্প্রতি, আমি উদ্ভট কিছু লক্ষ্য করেছি: ভারতীয় এবং পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজগুলি ওমান উপকূলে একে অপরের থেকে মাত্র ১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে আছে। কারণ পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে দুই দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষার চেষ্টা করছে।'

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই ওমান উপসাগর থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে এসকর্ট করে দেশের বন্দরে নিয়ে আসে ভারতীয় নৌবাহিনী। আর বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ভারতীয় রণতরীগুলি সেই দায়িত্ব পালন করে চলেছে।
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা সহজ।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং। ইরান যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের যত নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা সকলেই ভারতীয়। এছাড়া বহু ভারতীয় নাবিক জখমও হয়েছেন এই সব হামলায়। ভারত এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এরই সঙ্গে ওমান উপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।