...
...
Next Story

Indian Army 12 Rifles Theft: মাদ্রাজ রেজিমেন্ট থেকে ১২ রাইফেল, প্রায় ২ হাজার রাউন্ড গুলি উধাও

ঘটনার তদন্তে স্থানীয় বাহালারাম থানার পুলিশ নামলেও, সমান্তরালভাবে সেনার গোয়েন্দা বিভাগও তদন্ত শুরু করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লি থেকে কয়েকজন সেনা আধিকারিক ইতিমধ্যেই মাদ্রাজ রেজিমেন্টে পৌঁছেছেন। কর্নেল মায়াঙ্ক গোভিতিরকরের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করেছে।

Published on: Sep 3, 2026, 08:57:33 IST
Advertisement

তেলঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টের মাদ্রাজ রেজিমেন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি চুরির ঘটনা। গত ৩০ অগস্ট রাতে বাহালারাম এলাকার মাদ্রাজ রেজিমেন্ট থেকে অন্তত ১২টি অত্যাধুনিক রাইফেল, ২১টি ম্যাগাজিন, কয়েকটি নাইট ভিশন বাইনোকুলার এবং ১,৯১২ রাউন্ড গুলি চুরি হয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে সামরিক এবং পুলিশ—দুই মহলেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

তেলঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টের মাদ্রাজ রেজিমেন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি চুরির ঘটনা।
তেলঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টের মাদ্রাজ রেজিমেন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি চুরির ঘটনা।

ঘটনার তদন্তে স্থানীয় বাহালারাম থানার পুলিশ নামলেও, সমান্তরালভাবে সেনার গোয়েন্দা বিভাগও তদন্ত শুরু করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লি থেকে কয়েকজন সেনা আধিকারিক ইতিমধ্যেই মাদ্রাজ রেজিমেন্টে পৌঁছেছেন। কর্নেল মায়াঙ্ক গোভিতিরকরের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করেছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই বিশাল চুরি কোনও একজনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। অস্ত্রাগার বা ‘কোটে’-র তালা ভাঙার পাশাপাশি গোলাবারুদ রাখা বাক্সও ভাঙা হয়েছে। ফলে আগে থেকে পরিকল্পনা করেই একাধিক ব্যক্তি এই চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, অন্তত চারজন এই ঘটনায় জড়িত।

চুরি যাওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি একে-২০৩ রাইফেল এবং চারটি ইনসাস রাইফেল। প্রতিটি একে-২০৩ রাইফেলের ওজন প্রায় ৩.৮ কিলোগ্রাম এবং দৈর্ঘ্য প্রায় এক মিটার। অন্যদিকে একটি ইনসাস রাইফেলের ওজন প্রায় ৪.৩ কিলোগ্রাম। এত ভারী ও আকারে বড় অস্ত্র কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা থেকে নজর এড়িয়ে বের করে নেওয়া হল, সেটিই এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন।

তল্লাশি অভিযানে ডগ স্কোয়াডও নামানো হয়েছে। স্নিফার ডগ একটি সেনাকর্মীর কাছে গিয়ে থেমে যাওয়ায় ওই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ ও সেনা আধিকারিকরা। পাশাপাশি প্রাচীরের কাছে ঘাসের মধ্যে একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। এর সূত্র ধরে তদন্তকারীরা রেজিমেন্টের ভিতরেই অস্ত্র লুকিয়ে রাখার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।

তদন্তকারীদের সামনে এখন মূলত দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, চুরি করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রাচীরের ওপারে সরিয়ে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, রেজিমেন্টের চত্বরেই কোথাও সেগুলি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে, যাতে পরে সুযোগ বুঝে বাইরে পাচার করা যায়।

এর মধ্যেই চুরির রাতে একটি সন্দেহজনক মোটরবাইকের গতিবিধি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। একটি বেসরকারি সিসিটিভি ক্যামেরায় ভোররাত ৩টা ৪৮ মিনিটে মিলখা সিং গ্রাউন্ডের কাছে একটি মোটরবাইককে দেখা যায়। অন্ধকার এবং হেডলাইটের কারণে নম্বরপ্লেট স্পষ্ট না হলেও, বাইকটির ঘটনাস্থলে আসা ও দ্রুত চলে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশ্ন এখন একটাই—এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে সেনার অস্ত্রাগার থেকে এত বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উধাও হল? এর নেপথ্যে কোনও বাইরের চক্র, নাকি রেজিমেন্টেরই কারও হাত? তদন্ত এগোতেই সেই রহস্যের উত্তর মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe