দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর পথে আরও এক বড় সাফল্য ভারতের। ওড়িশা উপকূলে সফল ভাবে উড়ান পরীক্ষা সম্পন্ন করল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ এই পরীক্ষা চালায় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এই সাফল্যের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রলয়ের অন্তর্ভুক্তির পথ আরও প্রশস্ত হল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সাফল্যের জন্য ডিআরডিও, সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ওড়িশা উপকূলে ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ব্যবহারকারী বাহিনীর মূল্যায়ন পরীক্ষার (ইউজার ইভ্যালুয়েশন ট্রায়াল) অংশ হিসাবেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। পরীক্ষার সময় ডিআরডিওর বিভিন্ন আধিকারিক, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। চণ্ডীপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও পরীক্ষার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষার সাফল্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কী ক্ষমতা এই ক্ষেপণাস্ত্রের?
প্রলয় একটি সারফেস-টু-সারফেস বা ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। কঠিন জ্বালানি চালিত রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে চলে এই ক্ষেপণাস্ত্র। অত্যাধুনিক দিকনির্দেশ এবং নেভিগেশন প্রযুক্তি থাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুল ভাবে আঘাত হানতে পারে এটি।
প্রলয়ের বিশেষত্ব হল এর আধা-ব্যালিস্টিক গতিপথ। সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথের তুলনায় এর উড়ানের ধরন আলাদা। উড়ানের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী গতিপথ পরিবর্তন এবং বিভিন্ন কৌশলগত চাল চালানোর ক্ষমতা রয়েছে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের। ফলে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে মাঝপথে আটকানো কঠিন হতে পারে।
একাধিক ধরনের প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করতে পারে প্রলয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করা সম্ভব। মোবাইল লঞ্চার থেকেও উৎক্ষেপণ করা যায় ক্ষেপণাস্ত্রটি। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কোনও স্থায়ী উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের উপর নির্ভর করতে হয় না।
ভারতীয় সেনায় অন্তর্ভুক্তি আসন্ন
{{/usCountry}}একাধিক ধরনের প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করতে পারে প্রলয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করা সম্ভব। মোবাইল লঞ্চার থেকেও উৎক্ষেপণ করা যায় ক্ষেপণাস্ত্রটি। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কোনও স্থায়ী উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের উপর নির্ভর করতে হয় না।
ভারতীয় সেনায় অন্তর্ভুক্তি আসন্ন
{{/usCountry}}প্রলয় তৈরি করেছে হায়দরাবাদের রিসার্চ সেন্টার ইমারত। ডিআরডিওর অন্যান্য গবেষণাগারও এই প্রকল্পে যুক্ত ছিল। অন্য দিকে, ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল) ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। সংস্থাটি এই প্রকল্পের অন্যতম উন্নয়ন ও উৎপাদন সহযোগী।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম বার পরীক্ষামূলক উড়ান হয়েছিল প্রলয়ের। তার পর বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পরপর দু'টি সফল উড়ান পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাল্লার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছিল। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দু'টি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে সাফল্য পায় ডিআরডিও।
এ বার ব্যবহারকারী বাহিনীর মূল্যায়ন পরীক্ষাতেও সব লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীতে এই অস্ত্র ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি এখন আসন্ন। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বায়ুসেনার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় ভারতের সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি, নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনার প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী করবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবেই দেখছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।