...
...
Next Story

Pralay Missile Test: আরও শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার, সফল প্রলয়ের পরীক্ষা

প্রলয় একটি সারফেস-টু-সারফেস বা ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। কঠিন জ্বালানি চালিত রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে চলে এই ক্ষেপণাস্ত্র। অত্যাধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তি থাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুল ভাবে আঘাত হানতে পারে এটি।

Published on: Nov 6, 2026, 08:57:37 IST
Advertisement

দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর পথে আরও এক বড় সাফল্য ভারতের। ওড়িশা উপকূলে সফল ভাবে উড়ান পরীক্ষা সম্পন্ন করল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ এই পরীক্ষা চালায় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এই সাফল্যের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রলয়ের অন্তর্ভুক্তির পথ আরও প্রশস্ত হল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সাফল্যের জন্য ডিআরডিও, সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রলয় একটি সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল (@rajnathsingh X)
প্রলয় একটি সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল (@rajnathsingh X)

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ওড়িশা উপকূলে ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ব্যবহারকারী বাহিনীর মূল্যায়ন পরীক্ষার (ইউজার ইভ্যালুয়েশন ট্রায়াল) অংশ হিসাবেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। পরীক্ষার সময় ডিআরডিওর বিভিন্ন আধিকারিক, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। চণ্ডীপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও পরীক্ষার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষার সাফল্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কী ক্ষমতা এই ক্ষেপণাস্ত্রের?

প্রলয় একটি সারফেস-টু-সারফেস বা ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। কঠিন জ্বালানি চালিত রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে চলে এই ক্ষেপণাস্ত্র। অত্যাধুনিক দিকনির্দেশ এবং নেভিগেশন প্রযুক্তি থাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুল ভাবে আঘাত হানতে পারে এটি।

প্রলয়ের বিশেষত্ব হল এর আধা-ব্যালিস্টিক গতিপথ। সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথের তুলনায় এর উড়ানের ধরন আলাদা। উড়ানের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী গতিপথ পরিবর্তন এবং বিভিন্ন কৌশলগত চাল চালানোর ক্ষমতা রয়েছে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের। ফলে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে মাঝপথে আটকানো কঠিন হতে পারে।

প্রলয় তৈরি করেছে হায়দরাবাদের রিসার্চ সেন্টার ইমারত। ডিআরডিওর অন্যান্য গবেষণাগারও এই প্রকল্পে যুক্ত ছিল। অন্য দিকে, ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল) ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। সংস্থাটি এই প্রকল্পের অন্যতম উন্নয়ন ও উৎপাদন সহযোগী।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম বার পরীক্ষামূলক উড়ান হয়েছিল প্রলয়ের। তার পর বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পরপর দু'টি সফল উড়ান পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাল্লার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছিল। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দু'টি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে সাফল্য পায় ডিআরডিও।

এ বার ব্যবহারকারী বাহিনীর মূল্যায়ন পরীক্ষাতেও সব লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীতে এই অস্ত্র ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি এখন আসন্ন। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বায়ুসেনার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় ভারতের সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি, নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনার প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী করবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবেই দেখছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks