রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন উদ্দেশে আজ 'লং মার্চ' চালায় 'ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী জুলাই ৩৬ মঞ্চ'। এই সংগঠনের মিছিল অবশ্য আটকে দেয় পুলিশ। ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশন থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হয় এই কট্টরপন্থী 'ভারত বিরোধীদের'। তবে সেই ব্যারিকেড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশি কট্টরপন্থীরা। এই আবহে ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজশাহীতে। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্দেশে মিছিল করে যায় কট্টরপন্থীরা।

এদিকে আজকের মিছিল নিয়ে জুলাই ৩৬ মঞ্চের নেতা শাহরিয়ার কবির বলেন, 'ভারত আমাদের দেশের ওপর নানা ধরনের আগ্রাসন চালাচ্ছে। সীমান্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। আমাদের নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে। খুনি হাসিনাকে তারা ভারতে আশ্রয় দিয়েছে। ওসমান হাদির খুনিদেরও ভারত আশ্রয় দিয়েছে। আমরা ভারতীয় আগ্রাসন মানি না।'
এর আগে ঢাকায় মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের মিছিলে আবার জুলাই ঐক্যের নেতা ইসরাফিল ফরাজি দাবি করেছিলেন, ভারত নাকি আওয়ামী লীগের জন্য লবিস্ট নিয়োগ করেছে। এছাড়া বিএনপি এবং জামাতের সঙ্গে কথা বলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে দিল্লি। এই আবে তাঁর হুঁশিয়ারি, 'ভারতের জন্য ভবিষ্যৎ দিনগুলো ভালো হবে না।' এদিকে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, 'ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ করে তিনি স্পষ্ট করে জানাতে চান-যদি আগ্রাসন বন্ধ না হয়, সীমান্তে গুলি বন্ধ না হয় এবং বাংলাদেশের খুনিদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত থাকে, তাহলে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যা করা দরকার, সেটাই করা হবে। আপাতত হাইকমিশন পর্যন্ত এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। তবে পরিস্থিতি না বদলালে হাইকমিশনের ভেতরেও প্রবেশ করা হবে।' এই একই হুমকি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলি ইবনে মহম্মদ। এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই সবের মাঝেই দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করেছিল বিদেশ মন্ত্রক।