Flydubai Plane Hijack Alert: বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে বুধবার বড় ধরনের হাইজ্যাক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠানোর পর ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান উড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেয়। পরে জানা যায়, পাইলটদের মধ্যে ঝগড়ার কারণেই জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল। কোনও হাইজ্যাক হয়নি। বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এই আবহে ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট নিউজ’ (YNet News) এবং ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ (FZ1073) বিমানের কো-পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষে এক সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলা রুখে দেওয়া ক্যাপ্টেন একজন ভারতীয় নাগরিক।

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই ফ্লাইদুবাই বিমানটিকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করান যাত্রীদের মধ্যেই সফররত অন্য দুই অফ-ডিউটি পাইলট। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানের ওমানি কো-পাইলট আচমকাই ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর ছুরি নিয়ে হামলা করেন এবং বিমানটিকে বিপজ্জনকভাবে নিচের দিকে নামানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় বিমানে ১৮০-রও বেশি যাত্রী ছিলেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। হামলার পর গুরুতর আহত হয়েও ক্যাপ্টেন কো-পাইলটকে প্রতিরোধ করেন এবং বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিমানের ক্যাপ্টেন 'ভারতীয় বংশোদ্ভূত', অন্যদিকে ওয়াইনেট নিউজ তাঁকে 'ভারতীয় নাগরিক' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছনোর সময়। যাত্রীদের দাবি, আচমকাই ককপিটের ভিতর থেকে চিৎকার ও গোলমালের শব্দ শোনা যায়। পরে জানা যায়, কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছেন। এক যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানটি তখন দ্রুত নিচের দিকে নামছিল। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে সামনের দিকের কয়েকজন যাত্রী ককপিটের দিকে ছুটে যান। সেখানে তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় এক পাইলটকে দেখতে পান এবং হামলাকারীকে আটক করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন যাত্রী মিলে হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।বিমানের পিছনের দিকে থাকা আরও দুই পাইলটের সাহায্য নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন দ্রুত পরিস্থিতি সামলে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
ঘটনার পর ওমানি কো-পাইলট কীভাবে ইজরায়েলে যাওয়ার অনুমতি পেলেন, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদেশি বিমানকর্মীদের, বিশেষ করে আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলির নাগরিকদের, ইজরায়েলে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাচাই করা হয়। ফলে ওই কো-পাইলট কী ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল কিনা, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীরা পরীক্ষা করছেন। চ্যানেল ১২-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এন১২-এর সঙ্গে কথা বলার সময় এক ইজরায়েলি আধিকারিক এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে স্পষ্ট জানান যে এক বড়সড় হামলা এড়ানো গেছে। ওই আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এন১২ জানিয়েছে, 'এক পাইলট অন্যজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ৯/১১-এর মতো হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল—হয় বিমানটিকে মাটিতে নামিয়ে হাইজ্যাক করা অথবা সেটিকে সরাসরি বিধস্ত করা।'
{{/usCountry}}ঘটনার পর ওমানি কো-পাইলট কীভাবে ইজরায়েলে যাওয়ার অনুমতি পেলেন, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদেশি বিমানকর্মীদের, বিশেষ করে আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলির নাগরিকদের, ইজরায়েলে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাচাই করা হয়। ফলে ওই কো-পাইলট কী ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল কিনা, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীরা পরীক্ষা করছেন। চ্যানেল ১২-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এন১২-এর সঙ্গে কথা বলার সময় এক ইজরায়েলি আধিকারিক এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে স্পষ্ট জানান যে এক বড়সড় হামলা এড়ানো গেছে। ওই আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এন১২ জানিয়েছে, 'এক পাইলট অন্যজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ৯/১১-এর মতো হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল—হয় বিমানটিকে মাটিতে নামিয়ে হাইজ্যাক করা অথবা সেটিকে সরাসরি বিধস্ত করা।'
{{/usCountry}}ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হন। ওয়াইনেট নিউজ জানিয়েছে, দুই পাইলটকেই পরে তাবুকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ক্যাপ্টেনের অবস্থা গুরুতর ছিল বলে এক যাত্রী জানিয়েছেন। বিমানে থাকা এক ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসক আহত পাইলটের চিকিৎসায় সাহায্য করেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তাঁর দ্রুত চিকিৎসা আহত ক্যাপ্টেনের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে ওই যাত্রীর বক্তব্য। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এক যাত্রী জানিয়েছেন, একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন এবং তাঁকে ককপিট থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় বিমানটি নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল। পরিস্থিতি বুঝে সামনের সারিতে বসা কয়েকজন ইজরায়েলি যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে প্রতিহত করেন। পরে আহত পাইলটকে ভিতরে এনে বিমান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়।