...
...
Next Story

Indian Company Sanctioned: সুদানের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়েছে নাম! মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ভারতের সংস্থা

আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে বিস্ফোরক সরবরাহের অভিযোগে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরভিত্তিক শিল্প বিস্ফোরক প্রস্তুতকারী সংস্থা এসবিএল এনার্জিস লিমিটেড এবং সংস্থার সিইও অলোক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

Published on: Jun 28, 2026, 13:44:17 IST
Advertisement

সুদানের গৃহযুদ্ধ ঘিরে এবার উঠে এল ভারতের যোগ। আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে বিস্ফোরক সরবরাহের অভিযোগে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরভিত্তিক শিল্প বিস্ফোরক প্রস্তুতকারী সংস্থা এসবিএল এনার্জিস লিমিটেড এবং সংস্থার সিইও অলোক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, সংস্থার তৈরি বিস্ফোরক সুদানের সামরিক বাহিনীর হাতে পৌঁছে যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংস্থা।

সুদানে বিস্ফোরক সরবরাহের অভিযোগে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরভিত্তিক শিল্প বিস্ফোরক প্রস্তুতকারী সংস্থা (AP Photo/undefined)
সুদানে বিস্ফোরক সরবরাহের অভিযোগে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরভিত্তিক শিল্প বিস্ফোরক প্রস্তুতকারী সংস্থা (AP Photo/undefined)

শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রকের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC) সুদানের গৃহযুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও বিদেশি যোদ্ধা সরবরাহের অভিযোগে মোট আট ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। সেই তালিকায় রয়েছে এসবিএল এনার্জিস লিমিটেড এবং সংস্থার প্রধান অলোক চৌধুরীর নামও।

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, নাগপুরের এই সংস্থা সুদানের টার্গেট মাল্টিঅ্যাক্টিভিটিজ কোম্পানি লিমিটেড (TMAC)-কে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত সামগ্রী সরবরাহ করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, TMAC সুদানের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা **ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ সিস্টেম (DIS)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এই বিস্ফোরক পরে সুদানের সেনাবাহিনী (SAF) বোমা তৈরিতে ব্যবহার করেছে।

মার্কিন ট্রেজারি আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সাল থেকে SBL Energy ২০০-রও বেশি চালানে বিস্ফোরক সুদানে পাঠিয়েছে। এই সরবরাহই দীর্ঘায়িত করেছে সুদানের গৃহযুদ্ধ এবং বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

তবে NDTV-কে দেওয়া বিবৃতিতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এসবিএল এনার্জিস। সংস্থার দাবি, তারা ভারতের সরকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি বৈধ শিল্প প্রতিষ্ঠান, যা শুধুমাত্র খনি, পাথর খাদান, টানেল, রাস্তা ও পরিকাঠামো নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত শিল্প বিস্ফোরক তৈরি করে। কোনও ধরনের সামরিক বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তারা উৎপাদন বা রপ্তানি করে না।

এসবিএল আরও দাবি করেছে, মার্কিন প্রশাসনের ২০০-র বেশি চালানের অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে সুদানে মাত্র প্রায় ১০টি চালান পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলিও সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল। সংস্থা জানিয়েছে, সমস্ত নথিপত্র নিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এসবিএল এনার্জি লিমিটেড নাগপুরের কাছে ২২৫ একর জায়গাজুড়ে কারখানায় শিল্প বিস্ফোরক উৎপাদন করে। সংস্থার দাবি, তাদের প্রযুক্তিগত সহযোগী ছিল ভারতের সেন্ট্রাল মাইনিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CMRI)। খনি, রাস্তা নির্মাণ, টানেল ও অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত কার্টিজ বিস্ফোরক, ইমালশন বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, ডেটোনেটিং ফিউজসহ বিভিন্ন শিল্প সামগ্রী তারা উৎপাদন করে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সুদানের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী ব়্যাপিং সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-এর মধ্যে ক্ষমতার সংঘর্ষ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও RSF প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর দ্বন্দ্বই এই সংঘাতের মূল কারণ। ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের একটি বেসরকারি সংস্থার নাম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় উঠে আসায় বিষয়টি কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদিও SBL Energy জোর দিয়ে বলেছে, তারা সব সময় ভারত সরকারের নিয়ম মেনেই বৈধ বেসামরিক রপ্তানি করেছে এবং যুদ্ধের সঙ্গে তাদের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ নেই।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe