ভারত এখন শুধু নিজের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন মেটাচ্ছে না। বিশ্বের প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রফতানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে দেশ। এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি বেড়ে হয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা। দেশীয় উৎপাদনের উপর জোর দেওয়ার ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে দাবি তাঁর।
এক সময় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য ভারতকে বিপুল পরিমাণে বিদেশের উপর নির্ভর করতে হত। এখন সেই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। দেশের সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও দ্রুত বাড়ছে। রাজনাথ সিংয়ের দাবি, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা রফতানিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়।
অর্থাৎ প্রায় এক দশকে প্রতিরক্ষা রফতানি বেড়েছে ৫,৫০০ শতাংশেরও বেশি। এই বৃদ্ধিকে ভারতের আত্মনির্ভরতার অন্যতম বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন দিশা এসেছে। বিদেশ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
শুধু রফতানি নয়। সেনাবাহিনীকে আধুনিক করার দিকেও বড় জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, গত এক বছরে Defence Acquisition Council বা DAC ৮.৭৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রতিরক্ষা প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল দেশের তিন বাহিনীকে আরও আধুনিক করা। উন্নত অস্ত্র, সরঞ্জাম এবং সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেখা গিয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হল দেশের রফতানি ক্ষমতা।
{{/usCountry}}প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেখা গিয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হল দেশের রফতানি ক্ষমতা।
{{/usCountry}}ভারত এখন বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে পাঠাচ্ছে। দেশীয় সংস্থাগুলির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের উপস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বড় সংস্থার পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিও এই ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা রফতানি বাড়ার ফলে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। একই সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতার উন্নতিও হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট। একদিকে বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের জায়গা তৈরি করছে ভারত।
রাজনাথ সিংয়ের পরিসংখ্যান সেই পরিবর্তনেরই ছবি তুলে ধরেছে। ২০১৩-১৪ সালের ৬৮৬ কোটি টাকা থেকে ২০২৫-২৬ সালে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রফতানি। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোই এখন ভারতের অন্যতম বড় লক্ষ্য।