...
...
Next Story

লাভলিনার আপত্তির পর নড়েচড়ে ভারতীয় হাইকমিশন, ভুল মানচিত্র সরানোর নির্দেশ

বিতর্কের পরেই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়। তারা জানায়, গত ৩২ বছর ধরে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়েই তারা ব্যবসা করছে। কাউকে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং ভারতীয় বক্সিং দলকে আপ্যায়ন করতে পেরে তারা গর্বিত।

Published on: Aug 3, 2026, 09:54:11 IST
Advertisement

গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন নিয়ে বিতর্কের জেরে এবার সরব হল স্কটল্যান্ডে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন। ভারতীয় বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই বিষয়টি প্রকাশ্যে তোলার পর রেস্তোরাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেয় ভারতীয় মিশন। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষও ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, অবিলম্বে ভুল মানচিত্র-সহ সব সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হবে।

বিতর্কের পরেই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়।
বিতর্কের পরেই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়।

সম্প্রতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় বক্সিং দল দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করে। সাতটি সোনা ও তিনটি রুপো মিলিয়ে মোট ১০টি পদক জিতে ইতিহাস গড়েন ভারতীয় বক্সাররা। সেই সাফল্য উদ্‌যাপন করতে গ্লাসগোর 'মিস্টার সিং'স ইন্ডিয়া' নামে একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই-সহ গোটা ভারতীয় বক্সিং দল।

রেস্তোরাঁয় গিয়ে লাভলিনার নজরে আসে, তাদের লোগো এবং বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের অংশ দেখানো হয়নি। বিষয়টি দেখে তিনি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শান্ত ও সংযত ভাষায় তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ হিসেবে এই ভুল তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল আর না হয়, সেই অনুরোধও জানান।

লাভলিনার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপরই স্কটল্যান্ডে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তারা আশ্বাস দিয়েছে, ভুল মানচিত্র ব্যবহার করা সমস্ত সামগ্রী অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

এর কিছুক্ষণ পরেই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়। তারা জানায়, গত ৩২ বছর ধরে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়েই তারা ব্যবসা করছে। কাউকে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং ভারতীয় বক্সিং দলকে আপ্যায়ন করতে পেরে তারা গর্বিত। একই সঙ্গে তারা জানায়, খুব শীঘ্রই সঠিক ভারতের মানচিত্র ব্যবহার করে নতুন লোগো তৈরি করা হবে। তবে ক্ষমাপ্রার্থনার বিবৃতি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তোরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর দেখা যায়নি। ফলে সেটি মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিকে লাভলিনার এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন অসমের একাধিক মন্ত্রী। অসমের শিল্পমন্ত্রী বিমল বরাহ বলেন, রিংয়ের বাইরে দাঁড়িয়েও লাভলিনা দেশের সম্মান রক্ষা করেছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল বলেন, একজন প্রকৃত ভারতীয়র কাছে দেশের অখণ্ডতা নিয়ে কোনও আপস হতে পারে না। তাঁর কথায়, 'সব ঘুষি গ্লাভস পরে মারা হয় না, কিছু ঘুষি নিজের দৃঢ় অবস্থান দিয়েই মারা যায়।' এই ঘটনাকে অনেকেই শুধু একটি ভুল মানচিত্র সংশোধনের ঘটনা হিসেবে নয়, দেশের অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় একজন ক্রীড়াবিদের দায়িত্বশীল ভূমিকার উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe