বাংলাদেশে অন্যতম তাবড় শিল্পক্ষেত্র পোশাক সম্পর্কিত ইন্ডাস্ট্রি। সেই শিল্পক্ষেত্রের শ্রমিকরা গত কয়েকদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন। ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজপরি বৃদ্ধির দাবি তাঁরা সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখিয়ে পথে নামেন। গত কয়েক দিন ধরে এই বিক্ষওভ সামলাতে বাংলাদেশের পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে বিক্ষোবের জেরে বাংলাদেশের বহু পোশাক কারাখানা বন্ধ রয়েছে। পড়শি দেশের এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে এদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালকে প্রশ্ন করা হয়। সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ খুলে তিনি কী জানালেন দেখা যাক।

গাজিপুর, ঢাকা, মধ্য ময়মনসিংহে রেজিস্টার হওয়া প্রায় ৪ হাজার পোশাক কারাখনার মধ্যে মোট ৬৭০ টি কারখানা বন্ধ রয়েছে এই পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে ৯ পুলিশ সহ ১১ জন আহত হয়েছেন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের জেরে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। ক্রমাগত সেখানে ঘটনা প্রবাহের দিকে আমাদের নজর রয়েছে।’ এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার মাঝেই দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা ইতিবাচক, সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো, গঠনমূলক সম্পর্ক চাই।’
উল্লেখ্য, ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির পর্যালোচনা ইস্যু ঘিরে রণধীর জয়সোয়ালকে প্রশ্ন কার হলে, তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে রয়েছে যৌথ নদী কমিশন রয়েছে, এটি গঙ্গাসহ সকল আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে আলোচনার একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা। ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে গঙ্গা জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা দুটি তীরবর্তী রাষ্ট্রের মধ্যে নদীর জল ভাগাভাগির একটি পদ্ধতি নিয়ে বার্তা দেয়। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বর মাসে। এদিকে, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট বাংলদেশে আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাও বাংলাদেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন ওই ডিসেম্বর মাসেই। এদিকে, তারেক রহমান ভারত সফরে আসছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন যায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের কাছে। রণধীর জয়সোয়াল সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং এ বিষয়ে কোনও নতুন তথ্য পেলে আমি আপনাদের জানাব।’