বাংলাদেশে দুর্গাপুজো ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিলেন ভারতীয় কূটনীতিকেরা। পুজো শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন ভাদে। অন্য দিকে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সহাবস্থান জরুরি। তবে নিরাপত্তার আশ্বাসের মধ্যেই পুজোর আগে বাংলাদেশে মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দাবি, এ বছর পুজোর আগে এমন ৩৪টি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে।
‘সাম্প্রদায়িক ঘটনা রুখতে চেষ্টা করছে সরকার’

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শনে যান ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন ভাদে। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুজো শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করা এবং কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ঘোষণাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সবাইকে শারদীয় দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানান তিনি।
ভারত ও বাংলাদেশের দুর্গাপুজোর মধ্যে গভীর মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পবন। তাঁর কথায়, দুই দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জীবনযাত্রার আদানপ্রদান এই অভিন্ন বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ঢাকার বনানীর একটি পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর বক্তব্য, পুজোর সময় যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়, তা সারা বছর বজায় রাখা প্রয়োজন। সম্প্রীতি গড়তে হলে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। উৎসবের আনন্দের মধ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পুজোর আগে ৩৪টি হামলার অভিযোগ
তবে কূটনৈতিক মহলের সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা জানিয়েছেন, এ বছর দুর্গাপুজোর আগে দেশজুড়ে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা এবং এ ধরনের হিংসার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলের মতো বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ এসেছে। সংগঠনটির দাবি, ১১টি ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্তেরা।
{{/usCountry}}তবে কূটনৈতিক মহলের সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা জানিয়েছেন, এ বছর দুর্গাপুজোর আগে দেশজুড়ে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা এবং এ ধরনের হিংসার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলের মতো বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ এসেছে। সংগঠনটির দাবি, ১১টি ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্তেরা।
{{/usCountry}}সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি দুর্গামন্দিরে নির্মাণাধীন প্রতিমার মহিষ ও ময়ূরের অংশ ভাঙচুর করা হয়। ১ অক্টোবর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি দুর্গামন্দিরে চারটি প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ৯ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতেও নির্মাণাধীন প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ তদন্তের কথা জানিয়েছে।
এর আগেও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে হামলার চেষ্টা, প্রবেশদ্বার ভাঙচুর এবং হিন্দুদের বাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সিলেটের হাওলদার পাড়ায় এমন হামলার চেষ্টার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে পুজোর সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি নতুন নয়।
৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে বাড়তি নজরদারি
বাংলাদেশের পুলিশ জানিয়েছে, পুজোকে নির্বিঘ্ন রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন এবং পুজো পরবর্তী সময়েও নজরদারি চলবে। মণ্ডপে সিসিটিভি, পর্যাপ্ত আলো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়েছে।
ভারতের কূটনীতিকদের বক্তব্যে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন ও সম্প্রীতির গুরুত্ব উঠে এসেছে। কিন্তু প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের শাস্তি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। উৎসবের পাঁচ দিন নয়, সারা বছরই নিরাপত্তা বজায় রাখার দাবি তুলেছে সেখানকার হিন্দু সংগঠনগুলি।