তারেক রহমান গদিতে বসতেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছিল। এই আবহে এবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা বললেন, ভারতের তরফ থেকে ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি আরও বলেন, 'ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত।' এই আবহে মনে করা হচ্ছে, ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক ফের ট্র্যাকে ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে।

ইউনুস জমানা থেকেই ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বেশ কিছু স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। এমনকী বর্ডার হাটগুলিও বন্ধ আছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে চালু করা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে দুই পক্ষের। এদিকে ভারতীয় অর্থায়নের বাংলাদেশে যে সব প্রকল্পগুলোর কাজ থমকে পড়ে ছিল, তা নিয়ে আজকের বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জনান বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী।
এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনগুলিতে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছিল ভিসা আবেদনকারীদের। হাদি হত্যার প্রতিবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের 'এক একটা ইট খুলে ফেলার' হুমকি দিয়েছিল কট্টপন্থী বাংলাদেশিরা। চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনে ছোড়া হয়েছিল পাথর। এই আবহে ভারতও বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছিল।
এর আগে ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশি হিন্দু যুবক দীপুকে নৃশংস খুনের প্রতিবাদে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের। পুলিশের বসানো ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের খুব কাছে চলে আসে বিক্ষোভকারীরা। এই আবহে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ওপরে। এদিকে কলকাতাতেও বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখনো হয়। সেই প্রতিবাদ ঠেকাতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। তাতে রক্ত ঝরে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর দিল্লি, শিলিগুড়ি এবং আগরতলায় যাবতীয় ভিসা পরিষেবা স্থগিত করার ঘোষণা করে বাংলাদেশের হাইকমিশন। পরে তা ফের চালু করা হয়। নির্বাচনের আগে ফের ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে বাংলাদেশ। তবে এখন আবার সেই পরিষেবা চালু হয়েছে।