বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারতে আসার কথা আজ। এর আগে গত ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় বর্মা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে তারেক এবং প্রণয়ের কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ মন্ত্রক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়ে কথা হয়েছে দু'জনের। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও কথা হয় বৈঠকে। উল্লেখ্য, আজ খলিলুরের দিল্লি সফরেও সঙ্গী হবেন হুমায়ুন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈঠকে তারেক রহমানের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন প্রণয় বর্মা। এদিকে বৈঠকে নাকি প্রণয়কে তারেক বলেন, 'ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন ও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।' ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাও বলেন, 'আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত।'
এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, খলিলুর ভারতে আসছেন ৭ থেকে ৯ এপ্রিলের সফরে। এদিকে দিল্লি সফরে খলিলুরের সঙ্গী থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এই সফরকালে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সহ সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে খলিলুরের বৈঠক হওয়ার কথা বলে জানা গিয়েছে। ভারতে আসার আগে খলিলুর এই সফর নিয়ে বলেন, 'আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই।'
জানা গিয়েছে, জয়শঙ্কর ছাড়াও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা খলিলুরের। ইউনুস জমানায় ভারত-বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে তারেকের অধীনে বাংলাদেশ ফের ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। বর্তমানে ভারত দিয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। এদিকে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্য ভারতে রফতানি করে পারছে না বাংলাদেশ। এই সব নিয়ে বেশ চাপে আছে বাংলাদেশ। এরই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে যে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চায় বাংলাদেশ। এই আবহে খলিলুরের এই সাক্ষাৎ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের সব ধরনের ভিসা চালুর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করতে পারেন খলিলুর।