রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক জন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ হামলার বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, রাতভর ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালায় রুশ বাহিনী। হামলায় আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কির দাবি, হামলায় প্রচুর সংখ্যক জেটচালিত ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এর জেরে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কিয়েভ ও নয়াদিল্লি—দুই রাজধানীতেই।
এই হামলার সময়কালের সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণভাবে মিলে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক। কিরগিজস্তানের বিশকেকে চলতি ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে মোদী পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দুই নেতার সাক্ষাৎ হয়েছে। তার পরেই ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন করে তীব্র হামলার খবর সামনে এল।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শহরের একটি রেল ডিপোয় আঘাতে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩৫০ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের কাজও জারি রয়েছে।
বোরিস্পিল শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। সেখানে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৫০ জন বাসিন্দাকে ওই ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই শহরে হামলায় চার জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার জেরে বেশ কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
{{/usCountry}}বোরিস্পিল শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। সেখানে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৫০ জন বাসিন্দাকে ওই ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই শহরে হামলায় চার জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার জেরে বেশ কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
{{/usCountry}}শুধু রাজধানী অঞ্চল নয়, ওদেশা এবং তার আশপাশেও রুশ বাহিনীর হামলা অব্যাহত ছিল। সেখানে গ্লাইড বোমা ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। হামলার ফলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, রোমানিয়ার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চেকপয়েন্ট এবং রফতানি সংক্রান্ত পরিকাঠামোও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের সীমান্ত যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও খেরসন, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝঝিয়া, খারকিভ, চেরনিহিভ, ঝিতোমির, সুমি এবং দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও গোলাবর্ষণ ও হামলার খবর দিয়েছেন জেলেনস্কি। অর্থাৎ দেশের একাধিক প্রান্তে একই সময়ে হামলা চালিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোর উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ভারত বরাবরই সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাতের সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু যুদ্ধের মানবিক মূল্য এবং বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর হামলা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে। নতুন এই হামলার পর যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এল।