ভারতীয় নৌসেনার জন্য রাশিয়া আরও তিনটি কিলো-শ্রেণির সাবমেরিন দিতে চেয়েছিল। সেই সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল জল্পনা। তাতে এবার নতুন মোড়। রাশিয়া নিজেদের নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত তিনটি কিলো-শ্রেণির সাবমেরিন সংস্কার করে ভারতকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেছে প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি ওয়েবসাইট। তবে ওই প্রস্তাবে ভারতীয় নৌসেনার বিশেষ আগ্রহ নেই বলেই সূত্রের খবর।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার প্রস্তাব অনুযায়ী তিনটি পুরনো কিলো-শ্রেণির সাবমেরিনকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও বিভিন্ন আধুনিক সিস্টেম দিয়ে আপগ্রেড করে ভারতকে দেওয়ার কথা ছিল। পুরো চুক্তির আনুমানিক মূল্য একশো কোটি ডলারের নিচে হতে পারে। সেই হিসাবে প্রতিটি সাবমেরিনের দাম ৩৫০ মিলিয়ন ডলারেরও কম পড়তে পারে। বাইরে থেকে দেখলে এই প্রস্তাব তুলনামূলক কম খরচের মনে হলেও ভারতীয় নৌসেনার কাছে এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর অন্যতম কারণ সময়। রিপোর্টের দাবি, রাশিয়ার শিপইয়ার্ডগুলি এই ধরনের পুরনো সাবমেরিন সংস্কার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহ করতে সমস্যায় পড়তে পারে। অতীতে আকুলা-শ্রেণির সাবমেরিন সংস্কার ও সরবরাহেও দীর্ঘসূত্রিতার নজির রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এখন চুক্তি হলেও তিন থেকে চার বছর পরে সাবমেরিন হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর দৃষ্টিতে আরও একটি বড় সমস্যা হল এই সাবমেরিনগুলির বয়স। প্রস্তাবিত কিলো-শ্রেণির সাবমেরিনগুলি রুশ নৌবাহিনী থেকে ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেগুলিকে ফের পরিষেবায় আনতে শুধু অস্ত্র ও সেন্সর বদলালেই হবে না, সাবমেরিনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাল বা মূল কাঠামোতেও বড় ধরনের কাজ করতে হতে পারে। পুরনো প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরো যন্ত্রাংশ এবং পরিষেবার খরচও ভবিষ্যতে বেশি হতে পারে।
ভারতের বর্তমান সাবমেরিন বহরের পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ। IDRW জানিয়েছে, কিলো-শ্রেণির সংখ্যা আগামী কয়েক বছরে আরও কমবে। ফলে রাশিয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করলে সংখ্যার ঘাটতি কিছুটা সাময়িক ভাবে মেটানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু নৌসেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সেটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
{{/usCountry}}ভারতের বর্তমান সাবমেরিন বহরের পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ। IDRW জানিয়েছে, কিলো-শ্রেণির সংখ্যা আগামী কয়েক বছরে আরও কমবে। ফলে রাশিয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করলে সংখ্যার ঘাটতি কিছুটা সাময়িক ভাবে মেটানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু নৌসেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সেটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
{{/usCountry}}তার বদলে ভারত এখন নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন তৈরির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল প্রজেক্ট-৭৫আই, যার লক্ষ্য আধুনিক এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন বা AIP-যুক্ত প্রচলিত সাবমেরিন তৈরি করা। একই সঙ্গে প্রজেক্ট-৭৬-এর মতো সম্পূর্ণ দেশীয় নকশার সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। ভারতের নিজস্ব নকশায় তৈরি এই প্রকল্পে ভবিষ্যতে উন্নত সেন্সর, অস্ত্র এবং দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রজেক্ট-৭৬ নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশীয় নকশা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই সাবমেরিনের ওজন ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টনের বেশি হতে পারে এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির দিকে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।
অর্থাৎ, দ্রুত সংখ্যার ঘাটতি মেটাতে পুরনো রুশ সাবমেরিন কেনার বদলে ভারত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নতুন প্রযুক্তি, দেশীয় নকশা এবং নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতার দিকে এগোতে চাইছে—এমনই ছবি IDRW-র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে রাশিয়ার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা নৌসেনার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাই আপাতত বিষয়টিকে IDRW-র সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি সিদ্ধান্ত সামনে এলে ভারতের সাবমেরিন পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।