ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি আরও বাড়াতে এবার নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন। চলতি বছরই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি INS Aridhaman-এর উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার অরিহন্ত শ্রেণির আরও একটি সাবমেরিনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। নাম INS Arisudhan। এটি এই শ্রেণির চতুর্থ এবং শেষ সাবমেরিন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ভারতের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কর্মসূচি ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এই কর্মসূচির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল INS Arihant। ২০১৬ সালে সাবমেরিনটি ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। এরপর আসে INS Arighaat। চলতি বছর সেই তালিকায় যোগ হয়েছে INS Aridhaman। এবার নজর রয়েছে INS Arisudhan-এর দিকে।
প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭ হাজার টন ডিসপ্লেসমেন্টের এই সাবমেরিনে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বলা হচ্ছে, এর ৮০ শতাংশেরও বেশি প্রযুক্তি ও উপাদান ভারতেই তৈরি হচ্ছে। এর ফলে পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব সক্ষমতা আরও উন্নত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
INS Arisudhan-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হতে পারে এর পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থা। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এতে প্রায় ৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কমপ্যাক্ট লাইট-ওয়াটার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হবে। পারমাণবিক শক্তিচালিত হওয়ার কারণে এই ধরনের সাবমেরিন দীর্ঘ সময় জলের নীচে থাকতে পারে। ফলে একটানা দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এগুলি প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় বেশি কার্যকর।
অস্ত্র ব্যবস্থার দিক থেকেও এই সাবমেরিনকে ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে K-15 ‘সাগরিকা’ সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল বা SLBM ব্যবহারের সক্ষমতা থাকতে পারে। পাশাপাশি K-4-এর মতো আরও দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল বহনের সক্ষম হতে পারে এই সাবমেরিন। কিছু রিপোর্টে সর্বোচ্চ ২৪টি K-15 অথবা ৮টি K-4 মিসাইল বহনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অস্ত্রবিন্যাস নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
{{/usCountry}}অস্ত্র ব্যবস্থার দিক থেকেও এই সাবমেরিনকে ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে K-15 ‘সাগরিকা’ সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল বা SLBM ব্যবহারের সক্ষমতা থাকতে পারে। পাশাপাশি K-4-এর মতো আরও দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল বহনের সক্ষম হতে পারে এই সাবমেরিন। কিছু রিপোর্টে সর্বোচ্চ ২৪টি K-15 অথবা ৮টি K-4 মিসাইল বহনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অস্ত্রবিন্যাস নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
{{/usCountry}}ভারতের জন্য অরিহন্ত শ্রেণির সাবমেরিন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তার পিছনে রয়েছে দেশের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা কৌশল। ভারতের নিউক্লিয়ার ট্রায়াডের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু সক্ষমতা। স্থল এবং আকাশের পাশাপাশি সমুদ্রের গভীরে থাকা পারমাণবিক সাবমেরিন থেকেও মিসাইল ছোড়ার ক্ষমতা কৌশলগত প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করে।
এসএসবিএন বা পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর গোপন অবস্থান ধরে রাখার ক্ষমতা। সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থাকতে পারায় প্রতিপক্ষের পক্ষে সহজে এর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন। ফলে দ্বিতীয়বার পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
এই মুহূর্তে INS Arisudhan-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল সমুদ্র পরীক্ষা। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রয়েছে। সমুদ্র পরীক্ষায় সাবমেরিনটির প্রপালশন, নেভিগেশন, যোগাযোগ, সেন্সর এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে এর বিভিন্ন অপারেশনাল সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে।
এই পরীক্ষা সফল হলে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক সাবমেরিন কর্মসূচিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও উন্নত সাবমেরিন তৈরির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। ফলে ভারতের সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা শক্তি আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।