...
...
Next Story

‘আজ ট্রাম্প, কাল মোদী’, Today POTUS, Tomorrow LOTUS স্লোগানে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

সমাজমাধ্যমে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা কক্করের একটি স্লোগান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তাঁর বক্তব্য, ‘Today POTUS, Tomorrow LOTUS’। অর্থাৎ আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বিপর্যয়, আগামী দিনে বিজেপিরও একই পরিণতি হতে পারে। পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবিরও।

Published on: Nov 5, 2026, 11:43:12 IST
Advertisement

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট, কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ গিয়েছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। আর আমেরিকার এই নির্বাচনী ফলকে হাতিয়ার করেই এবার ভারতের বিজেপি সরকারকে নিশানা করল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। বিরোধীদের বক্তব্য, আমেরিকায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধাক্কা লাগা আসলে বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন। ভারতের রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। সমাজমাধ্যমে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা কক্করের একটি স্লোগান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তাঁর বক্তব্য, ‘Today POTUS, Tomorrow LOTUS’। অর্থাৎ আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বিপর্যয়, আগামী দিনে বিজেপিরও একই পরিণতি হতে পারে। পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবিরও।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা কক্করের একটি স্লোগান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তাঁর বক্তব্য, ‘Today POTUS, Tomorrow LOTUS’।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা কক্করের একটি স্লোগান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তাঁর বক্তব্য, ‘Today POTUS, Tomorrow LOTUS’।

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, আমেরিকার ট্রাম্প আসলে সেখানকার নরেন্দ্র মোদী। আর ভারতের মোদী হলেন দেশের ট্রাম্প। আমেরিকায় যে পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ট্রাম্প, আগামী দিনে ভারতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে দাবি তাঁর। নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশের সরকারকেও সরানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের এই নেতা।

কংগ্রেসে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা কক্কর। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির মুখপাত্র ছিলেন। বুধবার সমাজমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘Today POTUS, Tomorrow LOTUS’। POTUS শব্দের অর্থ প্রেসিডেন্ট অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস। অন্য দিকে, LOTUS অর্থ পদ্ম। এটি বিজেপির নির্বাচনী প্রতীকও। ফলে ট্রাম্পের পর এ বার মোদী সরকারের পালা বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালও এই নির্বাচনের ফলের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।

কংগ্রেসের এই আক্রমণের জবাবে পাল্টা স্লোগান দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আসবেন, যাবেন। কিন্তু পদ্ম থেকেই যাবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যা-ই হোক, ভারতে নরেন্দ্র মোদীর অবস্থান অটুট থাকবে। বিরোধীদের উচ্ছ্বাসকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। তাদের দাবি, আমেরিকার নির্বাচনের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনা করা অর্থহীন।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ আবার প্রধানমন্ত্রীর ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনে একই ধরনের ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে বিজেপি। তাঁর মতে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মোদী সরকারের কাছে একটি সতর্কবার্তা।

শুধু কংগ্রেস নয়, বিজেপিকে আক্রমণ করেছে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএমও। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন। সেখানে ট্রাম্পকে বিপজ্জনক বর্জ্য লেখা একটি ডাস্টবিনে ফেলে দিতে দেখা গিয়েছে। অন্য দিকে, ওয়াইসি মিশিগান থেকে মার্কিন সেনেটে নির্বাচিত মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি এবং সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকায় মুসলিম প্রার্থী সেনেটর হতে পারলে উত্তরপ্রদেশেও মুসলিমদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা থাকা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বাকি দু’বছরের শাসনকালে তাঁর নীতি এবং সিদ্ধান্তের উপর নজরদারি বাড়বে। তবে আমেরিকার নির্বাচনের ফল সরাসরি ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের বিপর্যয়কে সামনে রেখে মোদী সরকারকে আক্রমণের নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র পেয়ে গেল বিরোধীরা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks