কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জারি করল বিদেশ মন্ত্রক। বেসরকারি ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, চিনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভ্রমণ-সংক্রান্ত নথি, ভিসা ও অনুমতিপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত যেন কেউ ভারত থেকে যাত্রা শুরু না করেন। অন্যথায় মাঝপথে আটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার জারি করা এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ভারতীয় তীর্থযাত্রী নেপালে আটকে পড়েছেন। তাঁরা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিলেন। কিন্তু চিনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও অনুমতি না থাকায় তাঁরা কাঠমাণ্ডুতেই আটকে পড়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে একাধিকবার সহায়তার আবেদনও এসেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, অনেক তীর্থযাত্রী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই যাত্রা শুরু করছেন, এই আশায় যে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় নথি হাতে চলে আসবে। কিন্তু এই ধরনের সিদ্ধান্ত যাত্রীদের বড় ধরনের সমস্যায় ফেলতে পারে। তাই সমস্ত নথি নিশ্চিত হওয়ার পরেই ভারত থেকে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, তীর্থযাত্রীদের অবশ্যই যে সংস্থার মাধ্যমে যাত্রা করছেন, সেই ট্যুর অপারেটর সরকার অনুমোদিত এবং যথাযথভাবে নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। অনুমোদনহীন সংস্থার মাধ্যমে যাত্রা করলে ভিসা, পারমিট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হয় জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (শরদচন্দ্র পাওয়ার)-এর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে। তিনি জানান, প্রায় ৫২ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে আটকে রয়েছেন এবং তাঁদের দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
{{/usCountry}}এই ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হয় জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (শরদচন্দ্র পাওয়ার)-এর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে। তিনি জানান, প্রায় ৫২ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে আটকে রয়েছেন এবং তাঁদের দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
{{/usCountry}}সুপ্রিয়া সুলে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, নেপালে ভারতীয় দূতাবাস, চিনে ভারতীয় দূতাবাস এবং বিদেশ মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, আটকে পড়া তীর্থযাত্রীদের নিরাপদে যাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁর বক্তব্য, তীর্থযাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান জরুরি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২০ জুন নাথু লা সীমান্ত দিয়ে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রার প্রথম দলটি চিনে প্রবেশ করে। ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ বিরতির পর এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থযাত্রা আবারও শুরু হওয়ায় বহু ভক্তের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই উৎসাহে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে সম্পন্ন হয়। তাই ভিসা, পারমিট এবং অন্যান্য সরকারি অনুমোদন ছাড়া যাত্রা শুরু করলে শুধু ব্যক্তিগত ভোগান্তিই নয়, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার তীর্থযাত্রীদের আরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই এবং সরকার অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের পরিষেবা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও ভারতীয় তীর্থযাত্রীকে বিদেশে আটকে পড়তে না হয়।