ককপিটের ভিতর আচমকা ছুরি হামলা। রক্তাক্ত অবস্থাতেও নিয়ন্ত্রণ হারাননি পাইলট। বিমান তখন আকাশে, নীচে হাজার হাজার ফুট। এমন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, ৯/১১-র ধাঁচে ভয়ংকর হামলার আশঙ্কা তৈরি হলেও এক ভারতীয় পাইলট তা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।
ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্মিতের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, গত দিনের ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন অসাধারণ ধৈর্য, উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও এই ঘটনাকে ৯/১১-র মতো একটি সম্ভাব্য ভয়ংকর হামলা প্রতিরোধের উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন বলে জানান মোদী।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্মিতের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁর বাবা ভূপেন্দ্রভাই, মা গীতাবেন এবং স্ত্রী সোনালবেনের সঙ্গে কথা বলে পাইলটের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে সৌদিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্মিত। তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আবেদনও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের পথে রওনা দিয়েছিল। বিমানের কমান্ডার ছিলেন স্মিত মচ্ছার। মাঝ আকাশে আচমকাই ককপিটের ভিতর তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। সহ পাইলট ছুরি নিয়ে তাঁর উপর আক্রমণ করেন বলে জানা গিয়েছে। একের পর এক আঘাতে গুরুতর জখম হন স্মিত।
হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নীচে নেমে যায়। অর্থাৎ বিমানটির উচ্চতায় বড়সড় পরিবর্তন ঘটে। এমন অবস্থায় সামান্য ভুলও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত। বিমানে থাকা অন্য পাইলট এবং কর্মীরা দ্রুত দায়িত্ব নেন। তাঁদের তৎপরতায় বিমানটিকে ফের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়।
{{/usCountry}}হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নীচে নেমে যায়। অর্থাৎ বিমানটির উচ্চতায় বড়সড় পরিবর্তন ঘটে। এমন অবস্থায় সামান্য ভুলও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত। বিমানে থাকা অন্য পাইলট এবং কর্মীরা দ্রুত দায়িত্ব নেন। তাঁদের তৎপরতায় বিমানটিকে ফের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়।
{{/usCountry}}প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার পরে ককপিটের ভিতরে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিলেন স্মিত। তবুও পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয়, সে জন্য বাকি কর্মীরা এক সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত বিমানের গতিপথ বদলে সৌদির উত্তর পশ্চিমে তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তাবুকে নিরাপদে বিমান নামানোর পর আহত ক্যাপ্টেনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। অন্য দিকে, হামলার অভিযোগে সহ পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, কী ভাবে ককপিটের ভিতর এত সহজে ছুরি নিয়ে হামলা চালানো সম্ভব হল এবং সেই সময় বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী অবস্থায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমানে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ককপিটে হামলার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভয়াবহ বিপদ তৈরি হতে পারত। সেই কারণেই স্মিত মচ্ছারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ঘটনাটি আরও বেশি করে সামনে এসেছে।
একটি বিমানের নিরাপদ যাত্রা অনেকটাই নির্ভর করে ককপিটের পাইলট এবং ক্রুদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর। মাঝ আকাশে এমন হামলার পরও বিমানটিকে নিরাপদে নামানো সম্ভব হওয়ায় স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করছেন অনেকেই। এখন তাঁর দ্রুত সুস্থ হয়ে ফেরার দিকেই নজর পরিবারের, সহকর্মীদের এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের।