Indian Sailor Killed: আন্তর্জাতিক জলপথে ফের উদ্বেগ বাড়ল। কৃষ্ণসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ইরানের উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলা একটি এলপিজি বাহক জাহাজ। তবে ওই জাহাজে থাকা সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুলাই মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ওমোরফি কৃষ্ণসাগর দিয়ে যাওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হয়। ওই জাহাজে মোট ১০ জন নাবিক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনজন ভারতীয়। হামলায় চিফ অফিসার সাগর গুপ্তর মৃত্যু হয়। বাকি দুই ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল এবং বিশ্ব বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা সব দেশের দায়িত্ব বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় দূতাবাস ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। নিহত নাবিকের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও ভারত সরকার হামলার জন্য সরাসরি কোনও দেশের নাম উল্লেখ করেনি, ভারতের ফরওয়ার্ড সিম্যানস ইউনিয়নের দাবি, জাহাজটি ইউক্রেনের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল।
এরই মধ্যে শুক্রবার আরও একটি বড় ঘটনা ঘটে। মোজাম্বিকের পতাকাবাহী এলপিজি জাহাজ 'দিশা' ইরানের কাছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত করলে আগুন লেগে যায়। কিছু সময়ের জন্য জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে পরে আগুন নেভানো সম্ভব হয় এবং জাহাজটি নিরাপদে নোঙর ফেলে।
{{/usCountry}}এরই মধ্যে শুক্রবার আরও একটি বড় ঘটনা ঘটে। মোজাম্বিকের পতাকাবাহী এলপিজি জাহাজ 'দিশা' ইরানের কাছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত করলে আগুন লেগে যায়। কিছু সময়ের জন্য জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে পরে আগুন নেভানো সম্ভব হয় এবং জাহাজটি নিরাপদে নোঙর ফেলে।
{{/usCountry}}'দিশা' জাহাজে মোট ৩০ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৮ জন ভারতীয়, একজন শ্রীলঙ্কার ক্যাপ্টেন এবং একজন ভিয়েতনামের চিফ অফিসার। ভারতীয় নাবিকদের নিয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধি কে. ডি. রাও জানান, হামলায় কোনও নাবিক আহত হননি। নিরাপত্তার স্বার্থে ইঞ্জিন রুমে কাউকে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে একটি টাগবোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ছয়টি ভারতীয় জাহাজে ১২৫ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। এছাড়া ভারত-স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও ১৪টি জাহাজকে প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে মোট ৩,৯৮৫ জন নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী এলাকায় ইরান ও আমেরিকার হামলায়ও একাধিক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে ভারত ইতিমধ্যেই ইরান, রাশিয়া এবং আমেরিকার কূটনীতিকদের তলব করেছে।
ভারত আবারও স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই বাণিজ্যিক জাহাজ বা সাধারণ নাবিকদের লক্ষ্য করে হামলা করা উচিত নয়। কৃষ্ণসাগর, বাব-এল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগরের দক্ষিণ অংশ এবং ইয়েমেনের আশপাশের জলসীমায় চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজ ও ভারতীয় নাবিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।