শেয়ার বাজারে টানা পতনের ধাক্কা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। সেনসেক্স এবং নিফটি, দুই সূচকই টানা অষ্টম সপ্তাহে নেমেছে। প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে এটাই ভারতীয় শেয়ার বাজারে পতনের সবচেয়ে দীর্ঘ পর্ব। আট সপ্তাহের এই ধসের জেরে বিনিয়োগকারীদের সম্পদের পরিমাণে ২৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কমেছে। বাজারের এই দুরবস্থার পিছনে একাধিক কারণ কাজ করলেও বিদেশি লগ্নিকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি চাপ আরও বাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবরও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। দিন শেষে সেনসেক্স ৫৭০ পয়েন্টের বেশি নেমে ৭১,৯০৯-এর ঘরে থামে। নিফটিরও পতন হয়েছে প্রায় ১৯৮ পয়েন্ট। ফলে চলতি সপ্তাহে নিফটি প্রায় ৩.১ শতাংশ এবং সেনসেক্স প্রায় ২.৭ শতাংশ নেমেছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসেও দুই সূচকেই প্রায় ৬ শতাংশ করে পতন হয়েছিল।
আট সপ্তাহের হিসাব ধরলে ছবিটা আরও উদ্বেগের। এই সময়ে নিফটি প্রায় ৮.৭ শতাংশ এবং সেনসেক্স প্রায় ৮.৪ শতাংশ হারিয়েছে। পয়েন্টের হিসাবে সেনসেক্স পড়েছে প্রায় ৬৫৯০ পয়েন্ট, আর নিফটি কমেছে প্রায় ২১৪৯ পয়েন্ট। একই সময়ে বিএসইতে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন ২৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কমে ৪৬৭ লক্ষ কোটির নীচে নেমে গিয়েছে।
সবচেয়ে বড় চাপ আসছে বিদেশি লগ্নিকারীদের কাছ থেকে। ১ অক্টোবর এক দিনেই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা ভারতীয় শেয়ারে প্রায় ৯৪৮৪ কোটি টাকার নিট বিক্রি করেছেন। তার আগের তিনটি অধিবেশন ধরলে চার দিনে মোট বিক্রির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪,৯৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ কয়েক দিনের মধ্যেই বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি টাকা বেরিয়ে গিয়েছে।
অবশ্য দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ১ অক্টোবর তাঁরাই প্রায় ১০,০৪২ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। কিন্তু বিদেশি বিক্রির প্রবল চাপ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে। সেপ্টেম্বর মাসেও বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রি ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে ভারতীয় শেয়ার থেকে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বিদেশি পুঁজি।
{{/usCountry}}অবশ্য দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ১ অক্টোবর তাঁরাই প্রায় ১০,০৪২ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। কিন্তু বিদেশি বিক্রির প্রবল চাপ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে। সেপ্টেম্বর মাসেও বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রি ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে ভারতীয় শেয়ার থেকে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বিদেশি পুঁজি।
{{/usCountry}}কেন এই বিক্রি? বাজারের বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ। আমেরিকার বন্ডের সুদ হঠাৎ অনেকটাই বেড়েছে। ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড প্রায় ৫.৩৩ থেকে ৫.৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বহু বছরের মধ্যে উঁচু স্তর। বন্ডে সুদ বেশি হলে তুলনামূলক কম ঝুঁকির ওই বিনিয়োগ বিদেশি লগ্নিকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে টাকার চাপ কমতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কাঁচা তেলের দাম। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে ব্রেন্ট ক্রুড আবার ১০০ ডলারের উপরে উঠেছে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য তা বাড়তি চাপ তৈরি করে। তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ এবং মূল্যস্ফীতি, দুটিই বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তার উপর ডলারের তুলনায় টাকা দুর্বল হয়ে ৯৬.৩১-এর কাছাকাছি নেমেছে।
এখন তাই বাজারের নজর চার দিকে। বিদেশি বিক্রি কবে থামে, আমেরিকার বন্ডের সুদ কোন দিকে যায়, কাঁচা তেলের দাম কমে কি না এবং টাকা আরও দুর্বল হয় কি না, সেই হিসাবেই পরবর্তী দিশা অনেকটাই নির্ভর করছে। আপাতত অবশ্য দীর্ঘ পতনের কালো মেঘ কাটার স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।