পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মাঝেই ওমান উপকূলে ফের একটি জাহাজে হামলার খবর সামনে এসেছে। আক্রান্ত জাহাজটি ভারতীয়। গত চার দিনের মধ্যে এটি তৃতীয় বড় সামুদ্রিক হামলা বলে জানা যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ট্যাঙ্কারটির নাম এমটি জলবীর। জাহাজের ফানেল এবং ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটির পরে মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েকদিন আগেই ওমান উপকূলের কাছেই একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। এর মধ্যেই নতুন হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলাগুলি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। এখন নজর থাকবে ওমান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পরবর্তী সরকারি বিবৃতির দিকে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। ইরান ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালীর উপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং যুদ্ধ শুরুর পর একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপও করেছে। এর ফলে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ ওই পথে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যেও অবশ্য ভারতীয় জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছিল। এর মধ্যে আবার আমেরিকা হরমুজ অবরোধ শুরু করে। এর জেরে ওই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।