Indian Territorial Army Latest Update: প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে টেরিটোরিয়াল আর্মির পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI, সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যযুদ্ধের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রে দক্ষ বেসামরিক বিশেষজ্ঞদের টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত দক্ষতার ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে টেরিটোরিয়াল আর্মির বর্তমান কাঠামো ও দায়িত্বের পরিধি সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টেরিটোরিয়াল আর্মি মূলত এমন স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে গঠিত একটি আংশিক সময়ের সামরিক বাহিনী, যাঁরা নিজেদের বেসামরিক পেশার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।
নতুন পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হল, বেসামরিক ক্ষেত্রে কাজ করা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা। AI-এর পাশাপাশি তথ্যযুদ্ধ, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষ ব্যক্তিদের টেরিটোরিয়াল আর্মিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা ব্যক্তিদের জুনিয়র পদমর্যাদায় সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের টেরিটোরিয়াল আর্মিতে যোগদানে উৎসাহিত করতে তাঁদের সম্মানসূচক কমিশন দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বেসামরিক ক্ষেত্রে কর্মরত দক্ষ ব্যক্তিরা তাঁদের মূল পেশার পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন।
তবে এই উদ্যোগ একেবারে নতুন নয়। প্রযুক্তিগত প্রতিভাকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরেই টেরিটোরিয়াল আর্মি ইনোভেশন সেল চালু করা হয়েছিল। AI, ড্রোন এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করাই এই সেলের অন্যতম লক্ষ্য। প্রতি বছর উদ্ভাবনী হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিভাবান অংশগ্রহণকারীদের সামরিক প্রযুক্তি ইউনিটে কাজের সুযোগ দিতে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও রয়েছে।
{{/usCountry}}তবে এই উদ্যোগ একেবারে নতুন নয়। প্রযুক্তিগত প্রতিভাকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরেই টেরিটোরিয়াল আর্মি ইনোভেশন সেল চালু করা হয়েছিল। AI, ড্রোন এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করাই এই সেলের অন্যতম লক্ষ্য। প্রতি বছর উদ্ভাবনী হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিভাবান অংশগ্রহণকারীদের সামরিক প্রযুক্তি ইউনিটে কাজের সুযোগ দিতে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও রয়েছে।
{{/usCountry}}আগামী মাসে জাতীয় স্তরের আরও একটি হ্যাকাথন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে সাইবার নিরাপত্তা এবং AI-নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর একাধিক চ্যালেঞ্জ দেওয়া হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য বাগ হান্টিং, জাতীয় সাইবার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে AI-নির্ভর নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মতো বিষয় রাখা হতে পারে।
বর্তমানে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে প্রায় ৪৪,৪০০ কর্মী রয়েছেন। গোটা দেশে ছড়িয়ে থাকা মোট ৫৯টি ইউনিটের মধ্যে রয়েছে পদাতিক বাহিনীর ব্যাটালিয়ন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট। শুধু যুদ্ধ বা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, টেরিটোরিয়াল আর্মির অধীনে থাকা ইকোলজিক্যাল টাস্ক ফোর্স পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাতেও কাজ করে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি সাইবার হামলা, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন এবং AI-নির্ভর প্রযুক্তি ভবিষ্যতের সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই টেরিটোরিয়াল আর্মিতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে দেশের বেসামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে থাকা প্রতিভাকে সরাসরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার নতুন পথ খুলে যাবে।