...
...
Next Story

US court: ‘বাঁচানোর চেষ্টা’য় ব্যর্থ হয়ে স্ত্রীর দেহ কেটে টুকরো-টুকরো! আদালতে হাড়হিম করা স্বীকারোক্তি ভারতীয় বংশোদ্ভূতের

US court: মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পাঁচ সপ্তাহ পর নরেশ ভাটের এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি সামনে এলো, যদিও গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মমতা কাফলের মৃতদেহের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

Published on: Nov 6, 2026, 18:51:44 IST
Advertisement

US court: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত নরেশ ভাট আদালতে চাঞ্চল্যকর সাক্ষী দিলেন। তাঁর দাবি, ঘরে স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কী করবেন বুঝতে না পেরে মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে কাটেন। এই ঘটনায় কার্যত হুলুস্থুল পড়ে যায়।

আদালতে হাড়হিম করা স্বীকারোক্তি ভারতীয় বংশোদ্ভূতের (সৌজন্যে এক্স )
আদালতে হাড়হিম করা স্বীকারোক্তি ভারতীয় বংশোদ্ভূতের (সৌজন্যে এক্স )

অভিযুক্ত নরেশ ভাট আদালতকে জানান, তাঁর স্ত্রী মমতা কাফলে ভাট আত্মহত্যা করেছেন। বিছানার পাশে বমি ও ওষুধের বোতল পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তিনি। নরেশের দাবি, প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট এবং অত্যন্ত বিষাক্ত কীটনাশক খেয়ে মমতা আত্মহত্যা করেছেন। ২৮ বছর বয়সি স্ত্রীকে খুন, মৃতদেহ বিকৃত ও লোপাট করার অভিযোগে নরেশ ভাটকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই একটি ভিডিও কলে শেষবার দেখা গিয়েছিল মমতাকে। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নরেশ প্রথমে তাঁকে বাঁচানোর জন্য কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস (সিপিআর) দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় করাত দিয়ে স্ত্রীর মৃতদেহ কাটতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইউএসএ-এর (চ্যানেল ৯) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নরেশ নিজেও ঘটনার পর আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন বলে দাবি করেছেন। স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় পেয়েও কেন ‘৯১১’-এ কল করেননি—আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে নরেশ বলেন, ‘আমি জানি না কেন ফোন করিনি। চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম... মাথায় যেন কী ভর করেছিল। আমি খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।’

আদালতে সাক্ষ্য

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নরেশ জানান, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই রাত ৮টা নাগাদ তিনি তাদের ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘুমাতে যান। স্ত্রী কখন ওপরে এসেছিলেন, তা তিনি টের পাননি। নরেশের দাবি, পরদিন ভোর ৪টার দিকে বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন বিছানার পাশে চিত হয়ে পড়ে আছেন মমতা। তার চারপাশে বমি লেগে ছিল, যাতে প্রচুর ট্যাবলেট দেখা যায়। পাশে ‘সেলফোস’ নামে অত্যন্ত বিষাক্ত একটি কীটনাশকের প্যাকেটও পড়ে ছিল। ডব্লিউইউএসএ-এর বরাতে জানা যায়, নরেশ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মমতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি মারা গেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর মৃতদেহ টেনে বাথরুমে নিয়ে যান।

নরেশ আদালতকে বলেন, স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে মৃতদেহ লোপাট করে নিজেও আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে পটোকম নদীতে মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়ার চিন্তা করলেও পরে ‘হোম ডিপো’র দোকান থেকে মৃতদেহ লোপাট করার সরঞ্জাম কিনতে যান তিনি। নিজে গলায় তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তা করেননি জানিয়ে নরেশ বলেন, ‘আমি ক্যাবল তার-সহ সব গুছিয়ে এনেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজের প্রাণ নিইনি।’ নরেশ জানান, মৃতদেহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও না আটায় করাত দিয়ে কেটে ছোট করার চেষ্টা করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘শরীরের অংশগুলো আলাদা করার চেষ্টা করছিলাম... দেহ থেকে পা দুটি কেটে ফেলার চেষ্টা করি।’ তবে পুরো মৃতদেহ কেটে আলাদা করতে পারেননি বলে জানান তিনি।

কেন থামলেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে নরেশ বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি একদম শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম... আর পেরে উঠিনি।’ নরেশের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাথরুমেই করাত দিয়ে মৃতদেহ কাটার এই চেষ্টা চালানো হয়। পরবর্তীতে মৃতদেহের অংশগুলো একাধিক প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেন, যাতে কেউ তার সন্ধান না পায়। আইনজীবীদের ধারণা, এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তিনি মূলত ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়ানোর কৌশল নিয়েছেন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks