ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আগুন লেগে যায়। জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে পরে হেলিকপ্টারের সাহায্যে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার আবহে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পালাউ-ফ্ল্যাগযুক্ত তেলবাহী জাহাজ এমটি মারিভেক্স (MT Marivex) ওমান উপকূলের কাছে হামলার মুখে পড়ে। হামলার জেরে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় ক্রু সদস্যকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। সমুদ্রে ভাসমান লাইফর্যাফ্ট থেকে নাবিকদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকল ভারতীয় নাবিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল রয়েছে। এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ওমান উপকূল ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন অঞ্চলে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারতীয় নাবিকদের জড়িয়ে একাধিক সমুদ্র দুর্ঘটনা ও হামলার ঘটনা সামনে এসেছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ভারত সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ ওমানের উপকূলে ওই ট্যাঙ্কারে আছড়ে পড়ে ড্রোনটি। দাবি করা হয়, মার্কিন সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলাতেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। ড্রোনের আঘাতে সেটি গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে ড্রোন হামলার উৎস নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কিছু নাবিক সংগঠনের দাবি, জাহাজটি একটি সামরিক অভিযানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাংশের অভিযোগ, মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানের সময়ে ভুলবশত জাহাজটি হামলার মুখে পড়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে আমেরিকার তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।