...
...
Next Story

Indian's US Citizenship Revoked: ১৫ বছর আগের ধর্ষণ মামলায় দোষী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল

মার্কিন বিচার বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে নিউইয়র্কে এক মহিলা যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণ করেছিলেন গুরমীত। পরে ২০১৪ সালে সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। আদালত তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

Published on: Sep 1, 2026, 09:26:18 IST
Advertisement

ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে আমেরিকার আদালত। অভিযুক্তের নাম গুরমীত সিং। বয়স ৫৫ বছর। তিনি পেশায় ট্যাক্সিচালক ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে নিউইয়র্কে এক মহিলা যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণ করেছিলেন গুরমীত। পরে ২০১৪ সালে সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। আদালত তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে আমেরিকার আদালত।
ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে আমেরিকার আদালত।

এবার সেই পুরনো অপরাধের তথ্য গোপন করে কীভাবে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন, তা সামনে এসেছে। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন করার সময় নিজের অপরাধের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন সিং। ফলে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লঁশে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ভারতের এক দোষী সাব্যস্ত ধর্ষক আর মার্কিন নাগরিক নন। তাঁর দাবি, নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ধর্ষণ ও অপহরণের মতো অপরাধের তথ্য গোপন করেছিলেন সিং। সেই কারণে ফেডারেল আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেছে।

ব্লঁশে আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব কাউকে আইনের হাত থেকে রক্ষা করবে না। ভবিষ্যতেও এই ধরনের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে বার্তা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গুরমীত সিং ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকায় প্রবেশ করেন। তখন তিনি ছয় মাসের বেশি থাকার অনুমতি না থাকা এক অস্থায়ী ভিসায় এসেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন আমেরিকায় থেকে যান তিনি।

কিছুক্ষণ পর ঘুম ভাঙতেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। অভিযোগ, গুরমীত তাঁর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখান। এরপর তাঁকে বেঁধে, মুখ বন্ধ করে এবং চোখে কাপড় বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভোরের দিকে কোনওভাবে ট্যাক্সি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ছুটে গিয়ে ওই মহিলা সাহায্য চান। ঘটনার তদন্তের পর গুরমীত গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে নিউইয়র্কের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই অপরাধের পরেও তিনি নিজের নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যান। অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াতেই অপরাধের তথ্য গোপন করেন তিনি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই, ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে, তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে যান। অবশেষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের ২৬ আগস্ট নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের রায়ে তাঁকে ভুলভাবে পাওয়া নাগরিকত্ব সরকারের কাছে সমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেছেন, ভয়াবহ অপরাধ গোপন করে গুরমীত বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্বের সুবিধা নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, আদালতের এই সিদ্ধান্ত প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। নিউইয়র্কের ফেডারেল কৌঁসুলি জোসেফ নোসেলা জুনিয়রও একই বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, প্রতারণা করে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন পিছপা হবে না।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe