পঞ্জাবে ভারত-পাক সীমান্তে চলল গুলি। আর সেই ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার এই গুলি চলার ঘটনাটি ঘটে। এতে ভারতীয় জওয়ানদের গুলিতে দুই পাকিস্তানি পাচারকারী খতম হয়। এরপর শনিবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। একই সঙ্গে ফিরোজপুর সীমান্তের ঘটনা নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেছে বিদেশ মন্ত্রক। দিল্লির বক্তব্য, সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত চক্রকে পাকিস্তানের মাটি থেকে যে ভাবে মদত দেওয়া হচ্ছে, তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

কী ঘটেছিল শুক্রবার? ভারতীয় কর্তাদের দাবি, তিন জন ব্যক্তি পাকিস্তানের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের একাধিক বার সতর্ক করে ফিরে যেতে বলে। এক জন ফিরে গেলেও বাকি দুজন ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিএসএফ গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য। ওই ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
পাকিস্তানের অবশ্য দাবি সম্পূর্ণ আলাদা। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, নিহত দুজন নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক ছিলেন। তাদের ইচ্ছাকৃত ভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার অভিযোগও অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। তাদের বক্তব্য, কোনও রকম উস্কানি ছাড়াই বিএসএফ গুলি চালিয়েছে এবং তা ছিল মাত্রাতিরিক্ত। এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেও অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ। ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
এই অভিযোগের পরই পাকিস্তান ভারতে থাকা কূটনীতিককে তলব করে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা পদক্ষেপ করে দিল্লি। পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে তলব করে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্ত পারাপারের এই ধরনের ঘটনা নিয়ে ইসলামাবাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, সীমান্তে অনুপ্রবেশের ধারাবাহিক ঘটনা নিয়ে পাকিস্তানকে নিজেদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে।
দিল্লির অভিযোগ, বিষয়টি শুধু অনুপ্রবেশে থেমে নেই। পাকিস্তানের দিক থেকে সক্রিয় মাদক পাচারকারী চক্রও সীমান্ত পেরিয়ে কাজ করছে। এই সব চক্রের সঙ্গে সশস্ত্র লোকজনের যোগাযোগ রয়েছে বলেও ভারতের দাবি। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে বিষয়টি আরও গুরুতর বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তান সরকারকে এই ধরনের অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচার রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
{{/usCountry}}দিল্লির অভিযোগ, বিষয়টি শুধু অনুপ্রবেশে থেমে নেই। পাকিস্তানের দিক থেকে সক্রিয় মাদক পাচারকারী চক্রও সীমান্ত পেরিয়ে কাজ করছে। এই সব চক্রের সঙ্গে সশস্ত্র লোকজনের যোগাযোগ রয়েছে বলেও ভারতের দাবি। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে বিষয়টি আরও গুরুতর বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তান সরকারকে এই ধরনের অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচার রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
{{/usCountry}}বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত যে সব ব্যবস্থা ও নিয়ম রয়েছে, তা মেনে চলার জন্য পাকিস্তানকে নির্দেশ দিতে হবে নিজেদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছে ভারত।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক এমনিতেই যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে। তার মধ্যে পঞ্জাব সীমান্তের এই ঘটনা নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াল। দুই দেশের বক্তব্যে এতটাই ফারাক যে, ঘটনাটি ঘিরে পরিস্থিতি আরও কিছু দিন উত্তপ্ত থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।