...
...
Next Story

India's Chinese Rare Earth Minerals Pact: চিনের দুর্লভ খনিজে ভারতের বড় বাজি, মোদী-শি বৈঠকেই হতে পারে চুক্তি

চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে এই চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে সূত্রের খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

Published on: Sep 10, 2026, 08:16:59 IST
Advertisement

India's Chinese Rare Earth Minerals Pact: দুর্লভ খনিজের সরবরাহ নিয়ে চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পথে এগোচ্ছে ভারত। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে এই চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে সূত্রের খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকেই দুর্লভ খনিজ সরবরাহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

১২ সেপ্টেম্বর মোদী-শি বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রের খবর, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদী ও শি-র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তার মধ্যে দুর্লভ খনিজ অন্যতম। এর আগে ভারত ও চিনের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই সময় ভারতকে প্রয়োজনীয় দুর্লভ খনিজ সরবরাহের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিল চিন। এবার সেই আশ্বাসকে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্ভাবনা রয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের সময় দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তিতে সই হতে পারে। চুক্তি হলে ভারতের শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত হতে পারে।

দুর্লভ খনিজে ভারতের বড় সম্ভাবনা

বিশ্বের মোট দুর্লভ খনিজের প্রায় ৬ শতাংশ ভারতের মাটিতে রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। এই দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। তবে এখনও এই খনিজের বড় অংশ যথেষ্ট পরিমাণে উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভূগর্ভ সমীক্ষা দফতর অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রে মোট ৭২.৩ লক্ষ টন দুর্লভ খনিজের সম্ভাব্য মজুতের সন্ধান পেয়েছে।

কী এই দুর্লভ খনিজ?

দুর্লভ খনিজের মধ্যে মোট ১৭টি উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে স্ক্যান্ডিয়াম, সামেরিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, টারবিয়াম, ইট্রিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম এবং লুটেটিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং শিল্পে এই খনিজগুলির গুরুত্ব অনেক। বৈদ্যুতিক গাড়ি, চুম্বক, শক্তিশালী ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স এবং বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্র তৈরিতে এগুলি ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের দুর্লভ খনিজ সরবরাহের প্রায় ৮০ শতাংশই চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করা হয়। ফলে বহু দেশকে এই খনিজের জন্য চিনের উপর নির্ভর করতে হয়। ভারতের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি হলে এই নির্ভরতার কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ভারতের শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রও স্থায়ী সরবরাহের সুবিধা পেতে পারে।

চিনের পাশাপাশি রাশিয়ারও প্রস্তাব

দুর্লভ খনিজ নিয়ে শুধু চিন নয়, রাশিয়ার সঙ্গেও ভারতের সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ভারতের দুর্লভ খনিজের সন্ধান ও অনুসন্ধানের কাজে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এই কাজ অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থার এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞতা রয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, দুর্লভ খনিজের ক্ষেত্রে ভারতকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রাশিয়া। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারতের সামনে নতুন সুযোগ

দুর্লভ খনিজ এখন শুধু শিল্পের কাঁচামাল নয়, বরং অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে এই খনিজের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চিনের সঙ্গে একাধিক দেশের টানাপোড়েন রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে চিনের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি এবং রাশিয়ার সহযোগিতা—দুই দিকেই এগোতে পারলে ভারত ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে। দেশীয় মজুত খুঁজে বের করার পাশাপাশি বিদেশি অংশীদারদের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশলও তাতে জোরদার হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks