মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিয়ে আরও কমল খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার। সেপ্টেম্বরে দেশের খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার ১.৫৪ শতাংশে এসে ঠেকেছে। যা গত ৮ বছরের মধ্যে এটাই সবথেকে নিম্ন। ২০১৭ সালের জুনের পর এই প্রথম খুচরো বাজারে জিনিসপত্রের দাম এত কম।

কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের আগস্টের তুলনায় ৫৩ বেসিস পয়েন্ট কমায় সেপ্টেম্বরে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার এসে ঠেকেছে ১.৫৪ শতাংশে। যা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ২-৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও নীচে। সমস্ত জিনিসপত্রের সর্বমোট দাম কমার প্রবণতা ও খাদ্যমূল্যের বৃদ্ধি নিম্নগামী হওয়াতেই খুচরো বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। শাকসবজি, তেল ও বনস্পতি, ফল, ডাল, দানাশস্য জাতীয় খাবার, ডিম, জ্বালানি এবং আলোর দাম বিশেষ একটা বাড়েনি। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সেপ্টেম্বরে ঠেকেছে ২.১৭ এবং শহুরে এলাকায় মাইনাস ২.৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার মূল্যবৃদ্ধির হার ২ শতাংশের নীচে নামল। আগস্টে এই হার ছিল ২.০৭ শতাংশ এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৫.৪৯ শতাংশ ছিল।
বিভিন্ন রকমের খাদ্যদ্রব্যের দাম কমার জেরেই মূল্যবৃদ্ধির হার কমেছে। কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সের প্রায় অর্ধেক খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির উপর নির্ভরশীল। ফুড ইনফ্লাশন সেপ্টেম্বরে হয়েছে নেগেটিভ ২.২৮ শতাংশ। আগস্টে তা ছিল ০.৬৯ শতাংশ। তবে খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে মাছ-মাংসের দাম বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে তা বেড়েছে প্রায় ২.১৫ শতাংশ। আগস্টে তা বেড়েছিল ১.৫ শতাংশ। তবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সবজি, দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের দাম কমেছে। অন্যদিকে, হাউজিংয়ে আগস্টের তুলনায় ৩.০৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩.৯৮ শতাংশ। স্বাস্থ্যে আগের মাসে ছিল ৪.৪০, সেখান থেকে কমে হয়েছে ৪.৩৪ শতাংশ। শিক্ষায় ৩.৬০ শতাংশ থেকে কমে ৩.৪৪ শতাংশ হয়েছে। জ্বালানি ও আলোয় ২.৩২ থেকে ১.৯৮ শতাংশ হয়েছে। পরিবহণ ও কমিউনিকেশনের কমে ১.৯৪ থেকে ১.৮২ শতাংশে ঠেকেছে। খরিফ ফসলের বপন বেশি, জলাশয়ে পর্যাপ্ত জলস্তর এবং খাদ্যশস্যের ভালো মজুদ, এ সবই ভবিষ্যতে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবদান রাখবে। বিশ্লেষকদের বিশ্বাস, মুদ্রাস্ফীতির এই উল্লেখযোগ্য হ্রাস ভবিষ্যতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে রেপো রেট কমানোর জন্য আরও সুযোগ করে দিতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে। এই বছরের শুরু থেকে আরবিআই ১০০ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর আশা করছেন।