...
...
Next Story

ধসে পড়ছে বিল্ডিং, আতঙ্কে বাসিন্দারা! ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৫

Indonesia Earthquake: ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাজেও জেলার প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় যানজট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটেরও খবর পাওয়া গেছে।

Published on: Aug 15, 2026, 12:10:50 IST
Advertisement

Indonesia Earthquake: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি ইন্দোনেশিয়া (Indonesia Earthquake)। শনিবার ভোরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ভূকম্পনের ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ উচ্চ ভূমির দিকে চলে যান।

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প ও সুনামির সতর্কতা

৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া (REUTERS)
৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া (REUTERS)

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউজিএসজি) এবং ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠের খুব কম গভীরে থাকা এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলে, এন্ডে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। প্রথম দফার এই শক্তিশালী কম্পনের পর ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী আফটারশক সহ বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপ্রাকৃতিক সংস্থা (বিএমকেজি) পূর্ব নুসা টেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি এবং পশ্চিম নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে সুনামি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে। প্রায় ০.৫ মিটার থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কায় উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কিছু সময় বাদেই সেই সুনামি সতর্কতা (Tsunami Warning) প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ভূমিকম্পে প্রাণহানি

সাংবাদিক সম্মেলনে নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, ঘুমের সময় বহুতল বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বিএনপিবি প্রাথমিকভাবে একজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।

প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে বাড়িঘর

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাজেও জেলার প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় যানজট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটেরও খবর পাওয়া গেছে। বিএনপিবি-এর কর্মকর্তা আবদুল মুহারি বলেন, ফ্লোরেসের উত্তর উপকূল, দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণের দ্বীপগুলো এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে অবিলম্বে নিজেদের উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম কম্পাস টিভি-কে তিনি বলেন, বাসিন্দাদের উপকূল থেকে দূরে সরে যেতে হবে-হয় অন্তত দুই কিলোমিটার ভেতরের দিকে যেতে হবে, অথবা ১০ মিটার (৩৩ ফুট) এর বেশি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আরও আফটারশকের ঝুঁকি মূল্যায়ন অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই বড় ধরনের seismic activity বা ভূকম্পন ঘটে থাকে। এর আগে ২০০৪ সালের সুমাত্রার ভয়াবহ ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র পেতে এবং উদ্ধারকাজ চালাতে কাজ করছেন দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীরা।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe