US Comment on India-Pak War: আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাই যদি ঠিক ভাবে কাজ না করে, তা হলে বিশ্বের বড় বড় সংঘাতের সমাধান হবে কী করে? রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আবহে এমনই প্রশ্ন তুললেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। তাঁর দাবি, বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ভারত-পাকিস্তানের মতো সম্ভাব্য সংঘাত সামলানোর মতো কার্যকর কাঠামোও এখন নেই।

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিও বলেন, একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা থাকা অবশ্যই দরকার। রাষ্ট্রপুঞ্জের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিজের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও উদ্দেশ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে নানা বিষয়ে জড়িয়ে পড়েছে। অথচ বিশ্বের বড় বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না।
রুবিওর কথায়, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের নেতাদের মধ্যে একটি বিষয়ে প্রায় ঐকমত্য রয়েছে—আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে না। তিনি উদাহরণ হিসাবে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত তৈরি হলে তা সামলানোর ক্ষেত্রেও বর্তমান আন্তর্জাতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রগুলিকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হয়।
এই প্রসঙ্গে আমেরিকার অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার স্বার্থের উপরে আমেরিকা তার নিজের জাতীয় স্বার্থকে রাখবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও সেই নীতিতেই এগোবে বলে জানান তিনি।
{{/usCountry}}এই প্রসঙ্গে আমেরিকার অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার স্বার্থের উপরে আমেরিকা তার নিজের জাতীয় স্বার্থকে রাখবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও সেই নীতিতেই এগোবে বলে জানান তিনি।
{{/usCountry}}রুবিওর এই মন্তব্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গও। এক দিন আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প ফের দাবি করেন, গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১০ মে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পরে দুই দেশ ‘পূর্ণ ও অবিলম্বে’ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
তবে ভারতের বক্তব্য ভিন্ন। নয়াদিল্লি বার বার জানিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধের সমঝোতা হয়েছিল দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস বা ডিজিএমও-দের সরাসরি কথাবার্তার মাধ্যমে। কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না—এই অবস্থানও স্পষ্ট করেছে ভারত।
ফলে রুবিওর মন্তব্যে এক দিকে রাষ্ট্রসংঘ ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য দিকে ভারত-পাক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কে কতটা ভূমিকা নিয়েছিল, সেই পুরনো বিতর্কও ফের সামনে এসেছে।