মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণায় ফের চমকপ্রদ আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি মঙ্গলের একটি পাথরে এমন এক ধরনের খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা পৃথিবীতে অত্যন্ত মূল্যবান রত্ন হিসেবে পরিচিত। এই খনিজটির নাম ‘অলিভাইন’ (Olivine)। পৃথিবীতে অলিভাইনের স্বচ্ছ ও উন্নত মানের রূপকে ‘পেরিডট’ (Peridot) নামে রত্ন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়ার আমলেও এই রত্ন ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়।

নাসার মঙ্গলযান ‘পারসিভিয়ারেন্স’ (Perseverance Rover) সম্প্রতি মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটার অঞ্চলে একটি বিশেষ ধরনের শিলা পরীক্ষা করে এই খনিজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পাথরটির মধ্যে বিপুল পরিমাণ অলিভাইন রয়েছে, যা মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিভাইন সাধারণত আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। পৃথিবীতেও এই খনিজ আগ্নেয় শিলায় পাওয়া যায়। ফলে মঙ্গলের ওই অঞ্চলে অতীতে কী ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছিল, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলের অভ্যন্তরে সক্রিয় আগ্নেয় প্রক্রিয়া ছিল এবং সেই সময়েই এই ধরনের শিলার সৃষ্টি হয়েছিল।
পেরিডট রত্নের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। প্রাচীন রোমানরা একে ‘সূর্যের রত্ন’ বলে ডাকত। পরে ইউরোপের অভিজাত সমাজেও এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেখা যায়। রানী ভিক্টোরিয়ার আমলে ব্রিটিশ অভিজাতদের অলংকারে পেরিডটের ব্যবহার ছিল বেশ প্রচলিত। সেই কারণেই মঙ্গলের পাথরে একই খনিজের সন্ধান পাওয়া বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো রত্নখনি আবিষ্কার নয়। বরং এই খনিজের উপস্থিতি মঙ্গলের অতীত পরিবেশ, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং গ্রহটির বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে মঙ্গলে একসময় পানি ছিল কি না এবং সেখানে জীবনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও ভবিষ্যৎ গবেষণায় এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
{{/usCountry}}তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো রত্নখনি আবিষ্কার নয়। বরং এই খনিজের উপস্থিতি মঙ্গলের অতীত পরিবেশ, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং গ্রহটির বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে মঙ্গলে একসময় পানি ছিল কি না এবং সেখানে জীবনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও ভবিষ্যৎ গবেষণায় এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
{{/usCountry}}গবেষকদের মতে, পারসিভিয়ারেন্স রোভার আগামী দিনগুলোতে আরও নমুনা সংগ্রহ করবে। সেই নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে মঙ্গলের ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ফলে মঙ্গলের এই ‘রত্নখচিত’ পাথর শুধু একটি খনিজ আবিষ্কার নয়, বরং লাল গ্রহের অতীত রহস্য উন্মোচনের নতুন জানালা খুলে দিয়েছে।