ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিলের। সেই সময় জম্মু ও কাশ্মীরে এক পুলিশের এক নজরদারির সময় পুলিশকে তাক করে গুলি চালায় একদল জঙ্গি। সেই জঙ্গিদের মধ্যে একজন ইমতিয়াজ আহমেদ কান্দু। সেই জঙ্গি শিবিরের অনেককে পাকড়াও কার গেলেও, হিজবুল মুদাহিদ্দিন কান্দু সেই সময় পালিয়ে যায় পাকিস্তানে। এবার সেই কান্দুকে ঘিরেই ইন্টারপোল জারি করেছে রেড কর্নার নোটিস।

২০১৩ সালে কাশ্মীরে পুলিশের ওপর জঙ্গিদের সেই হামলায় ৪ জন পুলিশ কর্মী শহিদ হন। ঘটনার তদন্তে নেমেও বহুকাল তার কিনারা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি নামে তদন্তের ময়দানে। এরপর চলে সাক্ষীদের সঙ্গে কথাবার্তা, অস্ত্রের হদিশ পর্যন্ত পৌঁছানো ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ধারণা করার পালা! উঠে আসে ৬ নাম। তাদের মধ্যে সোপোরের তারিক মীর, কায়াম নজরের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘাতের জেরে এই দুই জঙ্গি এনকাউন্টারে মারা যায়। বাকি তিন জঙ্গি হয় গ্রেফতার। তাদের বিচার চলছে। তবে ফাঁকে তালে পাকিস্তান পালিয়ে যায় হিজবুলের ইমতিয়াজ কান্দু। ২০১০ থেকে হিজবুলের সদস্য কান্দু। সে এই জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডারও।
পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা ছাড়াও আরও ১০ সন্ত্রাস সম্পর্কিত ঘটনায় যুক্ত কান্দু। এছাড়াও অস্ত্র পাচার, মাদক-সন্ত্রাসের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে। তবে এত বছর ধরে কান্দু গ্রেফতারি এড়ালেও ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস, এবার তার বিপাক বাড়িয়ে দিয়েছে। তার প্রত্যর্পণের রাস্তা এতে কিছুটা প্রশস্ত। রেড কর্নার নোটিসের ফলে সদস্য দেশগুলোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে যে, কান্দুর সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে খুঁজে বের করতে, আটক করতে এবং তার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে হবে। এসআইএ (SIA)-র কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।