Bangladesh NCP Asif Mahmud Update: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের উপদেষ্টা তথা এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এই কাজের জন্য চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে দুদক।
বুধবার দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গিয়েছে, কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মহম্মদ জাহিদ কালাম। দুদক সূত্রের দাবি, আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ এবং বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কেনাকাটায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতেই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর কিছু অভিযোগও রয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ নেওয়া এবং অর্থপাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়। অনুসন্ধানের পরই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদকের কাছে দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠন ও কার্যক্রমে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
অভিযোগের আরও একটি অংশে তাঁর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব বা এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মোয়াজ্জেমের মাধ্যমে আসিফ মাহমুদ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। সেই সুবিধাগুলির প্রকৃতি কী ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, তা অনুসন্ধান করে দেখা হবে।
{{/usCountry}}অভিযোগের আরও একটি অংশে তাঁর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব বা এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মোয়াজ্জেমের মাধ্যমে আসিফ মাহমুদ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। সেই সুবিধাগুলির প্রকৃতি কী ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, তা অনুসন্ধান করে দেখা হবে।
{{/usCountry}}দুদকের অনুসন্ধান কমিটি অভিযোগের নথি সংগ্রহ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং নিয়োগ-বদলির তথ্যও খতিয়ে দেখা হতে পারে। সরকারি কেনাকাটার নথি ও আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে সরকারি নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘুষ বা অর্থপাচারের অভিযোগের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস এবং লেনদেনের পথ অনুসন্ধান করা হতে পারে।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে এখনই কাউকে দোষী বলা যায় না। দুদকের অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পরই অভিযোগগুলি কতটা সত্য, তা স্পষ্ট হবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
এই অনুসন্ধানের ফলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি এবং সরকারি কেনাকাটায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেটাও সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগেরও পর্যালোচনা হতে পারে। এখন নজর দুদকের তদন্তের দিকে। চার সদস্যের কমিটি কী তথ্য সংগ্রহ করে এবং অনুসন্ধানের শেষে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।