Iran Threats to US: ফের কী পরস্পরের উপর সামরিক আক্রমণ চালাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান? পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর লক্ষে ইরানের দেওয়া তিন দফা প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত মেটানোর আরও একটি প্রচেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হলো। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বাহিনীর উপর এক ‘নতুন অস্ত্র’ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে সেটা কি অস্ত্র সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলেনি তেহরান। ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এমন একটি নতুন অস্ত্র উন্মোচন করা হবে, যা শত্রুপক্ষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করবে। সেই সঙ্গে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, 'আশা করি এতে তাদের হার্ট অ্যাটাক হবে না।'

দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও আক্রমণাত্মক ভাষার ব্যবহারের মধ্যেই ইরানের সামরিক বাহিনী এমন দাবি করল। ইরান আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে দ্রুত জয়ের যে ধারণা তাদের শত্রুপক্ষ করেছিল, তা এখন উপহাসে পরিণত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ও ইরানের প্রস্তাব
ইরান সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রস্তাব দেয় ট্রাম্পকে। সেই প্রস্তাবে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে করা অবরোধ তুলে নেয়, তবে তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে। এরপরে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়। কিন্তু ট্রাম্প তা খারিজ করে দিয়ে হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। আর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে পরে। ট্রাম্প বলেন, অবরোধ বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর। এটি তাদের জন্য আরও খারাপ হবে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। এর জবাবে ইরান হুমকি দিয়েছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরান জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি বাহিনী যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তারা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংবেদনশীল মার্কিন ও ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে কমপক্ষে ১০০ দফা সফল প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান আরও বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে শত্রু ও তাদের মিত্র দেশের জাহাজগুলোকে চলাচলের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে বাধ্য করা হয়। কমান্ডার শাহরামের ভাষায়, 'আমরা আরব সাগরের দিক থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছি। তারা যদি আর একটু এগিয়ে আসে, আমরা কোনও বিলম্ব ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ করব।' অবরোধের মধ্যেও কিছু জাহাজ ইরানের বন্দর ছেড়ে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।
{{/usCountry}}ইরান জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি বাহিনী যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তারা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংবেদনশীল মার্কিন ও ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে কমপক্ষে ১০০ দফা সফল প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান আরও বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে শত্রু ও তাদের মিত্র দেশের জাহাজগুলোকে চলাচলের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে বাধ্য করা হয়। কমান্ডার শাহরামের ভাষায়, 'আমরা আরব সাগরের দিক থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছি। তারা যদি আর একটু এগিয়ে আসে, আমরা কোনও বিলম্ব ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ করব।' অবরোধের মধ্যেও কিছু জাহাজ ইরানের বন্দর ছেড়ে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।
{{/usCountry}}মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে ইরানি জাহাজ আটক করার’ অভিযোগও তোলেন ইরানি। তিনি বলেন, তারা নাবিকদের এবং তাদের পরিবারকে জাহাজে বন্দি করে রেখেছে। মার্কিনরা সোমালি দস্যুদের থেকেও খারাপ। কারণ সোমালিরা দারিদ্র্যের কারণে এমন কাজ করে। আর এরা তার সঙ্গে বন্দি করাও যোগ করেছে। তিনি আরও বলেন, 'যুদ্ধে নিহতদের রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত প্রতিশোধ নেওয়া হবে। আমরা তাদের এমন আঘাত করব, যাতে তারা অনুতপ্ত হয়।' অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর ট্রাম্পের কৌশল নিয়েও তিনি উপহাস করেন। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ইরানের তেল বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে- শত্রুরা এমনটা ভেবেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, এখন সেই ধারণা সামরিক একাডেমিগুলোতে হাস্যকর বিষয় হয়ে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালিয়েছে। ফলে কিছু সময়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই রণতরী থেকে বিমান অভিযান চালাতে পারেনি।