Strait of Hormuz Latest Update: হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে চাপ বাড়ল ভারতের উপর। ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালী কর্তৃপক্ষ বা পিজিএসএ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেদের নির্ধারিত নিয়ম না মানার অভিযোগে ৪৫টি জাহাজকে ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ বা অনুগত নয়, এমন জাহাজের তালিকায় রেখেছে। এই তালিকায় ভারতীয় সংস্থার মালিকানাধীন ও পরিচালিত অন্তত দুটি জাহাজ রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ‘মহা রুস’ এবং এলএনজি ট্যাঙ্কার ‘দিশা’।

ইরানের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত জাহাজগুলি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তেহরানের নির্ধারিত নিয়ম বা প্রোটোকল মানেনি। ভারতীয় জাহাজ ‘মহা রুস’ পুনের একটি সংস্থার মালিকানাধীন এবং মুম্বইয়ের একটি সংস্থা জাহাজটির বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা করে। অন্যদিকে ‘দিশা’ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পেট্রোনেট এলএনজি ব্যবহার করে এবং এর মালিকানার সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার যোগ রয়েছে।
তবে শুধু ভারতীয় জাহাজ নয়, ইরানের তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মাল্টা-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে যুক্ত জাহাজ। পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘মারদান’-ও এই তালিকায় রয়েছে। তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ জাহাজই জ্বালানি বা অন্যান্য পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত।
ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, নিয়ম না মানা জাহাজ ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে জরিমানা, আটক বা জাহাজ কিংবা পণ্য বাজেয়াপ্তের মতো পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, তালিকাভুক্ত কোনও জাহাজের সঙ্গে পণ্য আদানপ্রদান, এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য স্থানান্তর বা অন্য কোনও সহযোগিতা করলেও সংশ্লিষ্ট জাহাজকে নতুন করে কালো তালিকায় তোলা হতে পারে। তালিকা থেকে নাম সরাতে চাইলে ইরানের কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ দেখিয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।
এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে ইরান-আমেরিকা সংঘাত। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান চাইছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজগুলি তার নির্ধারিত পথ ব্যবহার করুক এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিক। অন্যদিকে আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলি ইরানের নির্ধারিত রুটের বদলে ওমান উপকূল ঘেঁষা বিকল্প পথে জাহাজ চলাচলে উৎসাহ দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের নেভিগেশন ব্যবস্থা।
{{/usCountry}}এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে ইরান-আমেরিকা সংঘাত। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান চাইছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজগুলি তার নির্ধারিত পথ ব্যবহার করুক এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিক। অন্যদিকে আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলি ইরানের নির্ধারিত রুটের বদলে ওমান উপকূল ঘেঁষা বিকল্প পথে জাহাজ চলাচলে উৎসাহ দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের নেভিগেশন ব্যবস্থা।
{{/usCountry}}সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তালিকাভুক্ত ৪৫টি জাহাজের অন্তত ১৪টি ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী বা তার আশপাশে হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এএফপির তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এসব ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাও ঘটনাগুলিকে হামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে, যদিও হামলার জন্য কে দায়ী তা তারা নির্দিষ্ট করেনি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। ভারতও এই জলপথের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারতে আসা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি এই পথেই পৌঁছয়। ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের কড়াকড়ি ভারতের জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এর মধ্যেই ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী নৌপথ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে। ফলে একদিকে নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা বাড়ছে, অন্যদিকে জলপথটি সচল রাখার জন্য কূটনৈতিক আলোচনাও চলছে। এই অবস্থায় ভারতীয় জাহাজের নাম ইরানের কালো তালিকায় ওঠা নয়াদিল্লির জন্যও নতুন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।