ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও বিশ্বের অর্থনীতিতে থরহরি কম্পন দেখা দিয়েছে। আমেরিকা এই আবহে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার ডাক দিয়েছে। পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এই আবহে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে বিশ্ব জুড়ে। আর এই সবের মাঝে দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আবদুল মজিদ হাকিম এলাহি বললেন, বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য গুরুতর। হরমুজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা এটি খুলতে প্রস্তুত, কিন্তু এই মুহূর্তে পরিস্থিতি ভালো নয়। কিছু জাহাজকে এখান দিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে।'

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে এলাহি বলেন, 'যারা শান্তি চায়, বিশ্বের এমন সব দেশ বা নেতাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। আমরা তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে বলেছি এবং এই যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছি। পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজগুলো কী করছে? তাদের সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিত। আমরা এখনো আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, কিন্তু মানবিক মূল্যবোধ, সার্বভৌমত্ব ও মৌলিক অধিকারের কথা মাথায় রেখেই যেকোনও সংলাপ সম্ভব হবে। আমরা কখনও আলোচনার টেবিল ছাড়িনি। কিন্তু তাঁদের দাবি এমনই ছিল যে তা পূরণ করা যায়নি।'
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে ইরান-মার্কিন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার থেকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানি জাহাজ চলাচল বন্ধ করবে বলে জানিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হরমুজে ইরানি বন্দরে কোনও জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান ঠেকাতে অবিলম্বে অবরোধ চালাবে মার্কিন নৌবাহিনী। এদিকে ইরানকে 'টোল' দেওয়া জাহাজগুলিকেও চিহ্নিত করে আটকানো হবে বলে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। অপরিদকে ইরানের দাবি, এই নৌপথের ওপর এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ফের সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এই সবের মাঝে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, হরমুজ প্রণালীতে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে আবারও বিশ্ব জুড়ে তেল সংকট দেখা দিতে পারে। এরই মাঝে ঘুরিয়ে আমেরিকাকেই দুষলেন ইরানি কূটনীতিক।