ইরান যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে এবার ইরানের পালটা বক্তব্য, যুদ্ধ কবে শেষ হবে, এবার সেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। এই নিয়ে এক বিবৃতি দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, 'এই অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যত এখন আমাদের সামরিক বাহিনীর হাতে। মার্কিন বাহিনী এবার এই যুদ্ধ শেষ করবে না। আমরা সিদ্ধান্ত নেব যুদ্ধ কখন শেষ করতে হবে।'

এর আগে রিপাব্লিকান নেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে কিছু শয়তনাকে শেষ করতে আমরা ছোট্ট এক্সকারশনে বেরিয়েছিলাম। শীঘ্রই সেই এক্সকারশান শেষ হবে।' অবশ্য এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই আবার ট্রাম্প একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, হরমুজ প্রণালীতে যদি তেল সরবরাহে ইরান ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে ২০ গুন জোরে ইরানে আঘাত হানবে আমেরিকা।
ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে আমেরিকার একাধিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান। এই সব রাডার ব্যবস্থাগুলির সম্মিলিত মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের 'চোখ-কান' হারিয়েছে আমেরিকা। এবং আমেরিকার সাতজন সেনা এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন এই যুদ্ধে। সব মিলিয়ে আমেরিকার এখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও তারা এই যুদ্ধে ফেঁসে গিয়েছে বলে অনেকের মত। কাতার, কুয়েত, সৌদিতে তাদের সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে দূতাবাসে হামলা চলছে।
এরই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে ইরান তাণ্ডব চালানোর জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের সংকটে ভুগতে পারে গোটা বিশ্ব। কারণ এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, ইরান বিরুদ্ধে আমেরিকা জয়ী হয়েছে। তাই এই যুদ্ধের আর কোনও প্রয়োজন নেই। তবে আদতে এই সংঘাত এখনও জারি রয়েছে। পশ্চিম এশিয়া জ্বলছে। ট্রাম্পের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে খামেনেইর পুত্র মোজতাবাকে সর্বোচ্চ নেতা করেছে ইরান। ইরানের মৌলবাদী শাসকরা তাই এত সহজে হয়ত ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে কেটে পড়তে দেবে না।