ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসে কড়া বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়েই আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি। ইরানকে চাপ দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে মাথা নোয়ানো যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন পেজ়েশকিয়ান। একইসঙ্গে ভারতের আতিথেয়তার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে বৈঠক
শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন। তার আগেই শুক্রবার দিল্লিতে পৌঁছন ইরানের প্রেসিডেন্ট। সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের সামনে বক্তব্য রাখেন পেজেশকিয়ান। সেখানে ভারতীয় আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এর ফলে ভবিষ্যতে সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও অর্থনীতির মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
আমেরিকা-ইজরায়েলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি
তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য। ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এই দুই দেশ ইরানকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই চাপের সামনে তেহরান মাথা নোয়াবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্টের বার্তা, যত চাপই আসুক, ইরান তার অবস্থান থেকে সরে যাবে না। বরং কোনও হামলা বা চাপের জবাব দেওয়ার জন্য দেশ প্রস্তুত থাকবে। তাঁর বক্তব্যে ইরানের প্রতিরোধের মনোভাবই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাধারণ মানুষকে নিশানা করা নিয়ে ক্ষোভ
{{/usCountry}}ইরানের প্রেসিডেন্টের বার্তা, যত চাপই আসুক, ইরান তার অবস্থান থেকে সরে যাবে না। বরং কোনও হামলা বা চাপের জবাব দেওয়ার জন্য দেশ প্রস্তুত থাকবে। তাঁর বক্তব্যে ইরানের প্রতিরোধের মনোভাবই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাধারণ মানুষকে নিশানা করা নিয়ে ক্ষোভ
{{/usCountry}}আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির প্রসঙ্গও সামনে আনেন পেজ়েশকিয়ান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মানবাধিকার রক্ষার কথা বলা দেশগুলিই কেন সাধারণ মানুষ, স্কুল ও হাসপাতালকে হামলার লক্ষ্য করছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানে স্কুলপড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। তাঁর মতে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিবর্তে বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা চালানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের মানুষ আত্মসমর্পণ করবে না বলেও জোর দেন তিনি।
মোদীর বার্তা—যুদ্ধ নয়, আলোচনাই পথ
পেজ়েশকিয়ানের বক্তব্যে যখন সংঘাতের সুর তীব্র, তখন ভারতের অবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে কূটনৈতিক। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সমস্যার সমাধান আলোচনার টেবিলেই হওয়া উচিত বলে বার্তা দেন তিনি।
মোদী পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত উত্তেজনা কমানো, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার উপর জোর দেন। অর্থাৎ দিল্লি একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে সরাসরি সংঘাতের বদলে কূটনীতির পথকেই সামনে রাখছে।
ব্রিকস মঞ্চে নজর দিল্লির দিকে
এবারের ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ভারতে এসেছেন। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দিল্লিতে যোগ দেবেন। ফলে সম্মেলনের মঞ্চে আমেরিকার সঙ্গে টানাপোড়েনে থাকা একাধিক শক্তিধর দেশের উপস্থিতি থাকছে।
পেজেশকিয়ানের কড়া বার্তা, পুতিনের উপস্থিতি এবং শি জিনপিংয়ের আগমন—সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলন যে শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, পশ্চিম এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতির বড় সমীকরণও সেখানে সামনে আসতে পারে, সেদিকেই নজর এখন আন্তর্জাতিক মহলের।