পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক মার্কিন মহিলাকে কড়া জবাব দিয়েছে। ওই মহিলা দাবি করেছিলেন, তাঁর ছেলেদের মধ্যে একজন যুদ্ধবিমানের পাইলট। ওই মহিলা এক্স বার্তায় লিখেছেন, তিনি এখনও তাঁর ছেলে বা তাঁর ইউনিটের কাছ থেকে কোনও খবর পাচ্ছেন না। তাঁর মন ‘উদ্বেগে ভারাক্রান্ত’ হয়ে আছে।

এরপরেই তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ইরানি হেফাজতে থাকার চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে থাকাকালে তাঁর ছেলেরা ‘বেশি বিপদে’ রয়েছেন। নিখোঁজ পাইলটদের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে ওই মহিলার করা বার্তার জবাবে পাকিস্তানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস লিখেছে, ‘নিশ্চিত থাকুন, ইরানি হেফাজতে থাকার চেয়ে ডিজে ট্রাম্পের অধীনে আপনার ছেলেরা বেশি বিপদে আছে। প্রার্থনা করুন, যেন তিনি মার্কিন উদ্ধারকারী দলের হাতে পড়ার চেয়ে ইরানের কাছে বন্দী থাকেন। মুসলিম ও সভ্য ইরানি হিসেবে আমরা জানি, কীভাবে বন্দীদের সঙ্গে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করতে হয়।’
দক্ষিণ আফ্রিকার ইরানি দূতাবাসও একই বার্তা দিয়েছে। যুদ্ধবন্দীদের প্রতি ইরানের ঐতিহাসিক আচরণের কথা উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, ‘তথাকথিত মানবিক আইনগুলো লেখার অনেক আগে থেকেই ইরানে যুদ্ধবন্দীদের অধিকার সংজ্ঞায়িত ছিল। আমরা আপনার বর্বর মিত্র জায়নবাদীদের মতো যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে আচরণ করি না। আমাদের একটি ইরানি সভ্যতা আছে। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রস্তরযুগে বাস করি না।’ ইরানের দুই দূতাবাসের এসব প্রতিক্রিয়া মার্কিন পাইলটের মায়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন একটি পোস্টের পরে এসেছে। তিনি লিখেছিলেন, ‘অনুগ্রহ করে আজ রাতে ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটের জন্য প্রার্থনা করুন। আমার ছেলেদের একজন যুদ্ধবিমানের পাইলট। আমি এখনও তাঁর বা তার ইউনিটের কোনও খবর পাইনি। দুশ্চিন্তায় আমার মন ভারাক্রান্ত। দয়া করে সব পাইলট ও তাঁদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’ শুক্রবার পৃথক ঘটনায় ইরান দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত করে। একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও অন্তত একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে, এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি গুলি করে নামানো হয়েছে নাকি এমনিতে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, মার্কিন ড্রোন, বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো সেই পাহাড়ি অঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছে, যেখানে ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী একজন পাইলট বিমান থেকে বের হয়েছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি বাহিনী ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। ইরানও আগ্রাসনের জবাব দেওয়া শুরু করে। সেদিন থেকে এই প্রথম কোনও মার্কিন বিমান ভূপাতিত হল। যুদ্ধ চলাকালীন ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তারা শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরান অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। এরমধ্যে ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া একটি ট্যাংকার বিমান এবং কুয়েতি বাহিনীর ভুল-বোঝাবুঝির গুলিতে তিনটি এফ-১৫ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। যুদ্ধে ইরানে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় দুই ডজন মানুষ মারা গেছে; ইজরায়েলে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
{{/usCountry}}এদিকে, এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি গুলি করে নামানো হয়েছে নাকি এমনিতে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, মার্কিন ড্রোন, বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো সেই পাহাড়ি অঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছে, যেখানে ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী একজন পাইলট বিমান থেকে বের হয়েছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি বাহিনী ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। ইরানও আগ্রাসনের জবাব দেওয়া শুরু করে। সেদিন থেকে এই প্রথম কোনও মার্কিন বিমান ভূপাতিত হল। যুদ্ধ চলাকালীন ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তারা শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরান অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। এরমধ্যে ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া একটি ট্যাংকার বিমান এবং কুয়েতি বাহিনীর ভুল-বোঝাবুঝির গুলিতে তিনটি এফ-১৫ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। যুদ্ধে ইরানে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় দুই ডজন মানুষ মারা গেছে; ইজরায়েলে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
{{/usCountry}}