ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর থেকে একবারও প্রকাশ্যে আসেননি। এহেন মোজতবা খামেনেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে বহুদিন ধরেই। এবার নয়া এক রিপোর্টে দাবি করা হল, তিনি অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এবং ইরানের তরফ থেকে কোনও সিদ্ধান্ত তিনি নিচ্ছেন না। মোজতবার অবস্থা খুবই খারাপ বলে দাবি করেছেন আমেরিকা এবং ইজরায়েলি গোয়েন্দারা। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতাবা কোম শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া মেমোতে বলা হয়েছে, তার অবস্থা পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো। তিনি কোনও কিছু নিয়ে ভাবতে পারছেন না।

এদিকে গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আলি খামেনেইকে কোম শহরেই কবর দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, খামেনেই পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও মোজতবাকে তাঁর মৃত্যুর পর নতুন কবরস্থানটিতেই দাফন করা হবে। উল্লেখ্য, মোজতবার বাবা আলি খামেনেই ছাড়াও তাঁর মা ও স্ত্রীও মার্কিন বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। দাবি করা হচ্ছে, সেই হামলাতেই গুরুতর জখম হয়েছেন মোজতবাও।
৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনেইকে সম্প্রতি তাঁর বাবা আলি খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালে ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। মোজতবা ইরানের শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষাকেন্দ্র কোমের মাদ্রাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন। বছর ৫৬-র মোজতবা এর আগে কখনও কোনও সরকারি পদে ছিলেন না। তবে তরুণ বয়সে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন বলে জানা জানা যায়। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বাবার কার্যালয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। এই মোজতবার নাকি বিদেশে প্রচুর সম্পত্তি। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, লন্ডনের এক বিলাসবহুল আবাস এবং সুইস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অর্থ মিলিয়েই মোজতবার আছে ১৩৮ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি। এছাড়াও আরও দেশি বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি আছে। এদিকে তাঁর ছেলে মোজতবাকে যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা না করা হয়, নিজের দলিলে নাকি এমনটাই ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন আলি খামেনেই। তবে আইআরজিসির চাপে নাকি মোজতবাকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়েই জল্পনা চলেছে দীর্ঘদিন ধরে।