ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবার সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পতে 'মূল্য দিতে হবে' বলে হুমকি দিলেন আলি লারিজানি। তিনি আরও বলেন, 'ট্রাম্পকে ছাড়া হবে না'। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লারিজানি লেখেন, 'আমাদের নেতা এবং আমাদের মানুষদের রক্তের প্রতিশোধ নেব আমরা।'

অপর একটি পোস্টে ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে বলেন, 'আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে আপনাদের মাটি ব্যবহার করতে দেবেন না, নয়ত আমাদের আত্মরক্ষার জন্য আর কোনও উপায় থাকবে না। এই অঞ্চলে থাকা ঘাঁটি থেকে যখন শত্রুপক্ষ আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তাহলে আমাদেরও জবাব দিতে হবে এবং সেই জবাব দিতে থাকব।'
লারিজানি আবার দাবি করেছেন, ইরান নাকি আমেরিকার কয়েকজন সেনা জওয়ানকে আটক করেছে। ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমরা ট্রাম্পকে ছাড়ব না। তিনি যা করেছেন, তার মূল্য তাঁকে দিতে হবে। তিনি আমাদের নেতাকে শহিদ করেছেন। আমাদের ১০০০-এরও বেশি নাগরিককে খুন করেছে। এটা কোনও সাধারণ বিষয় নয়। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে ভেঙে দেওয়া। ভেনেজুয়েলাতে যা হয়েছিল, ইরানেও সেটাই করতে চায় আমেরিকা। কিন্তু আমেরিকার সমস্যা হল তারা পশ্চিম এশিয়া, বিশেষ করে ইরানকে বোঝে না। তারা মনে করেছিল, এটা ভেনেজুয়েলার মতো হবে, তারা আসবে, মারবে এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। তবে এখন তারা এখানে ফেঁসে গিয়েছে।'
এদিকে প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর হামলার জন্য 'ক্ষমা' চেয়ে নিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, 'ইরান তাঁর ভয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে'। আর এই 'খোঁচা'র পরই সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে ফের মিসাইল হামলা চালাল ইরান। আর ইরানের মিসাইল হামলায় প্রাণ গিয়েছে এক পাকিস্তানির। ঘটনাটি ঘটেছে দুবাইতে। এছাড়া সৌদি, কুয়েত, ইরাকেও হামলা চালিয়েছে ইরান।
{{/usCountry}}এদিকে প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর হামলার জন্য 'ক্ষমা' চেয়ে নিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, 'ইরান তাঁর ভয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে'। আর এই 'খোঁচা'র পরই সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে ফের মিসাইল হামলা চালাল ইরান। আর ইরানের মিসাইল হামলায় প্রাণ গিয়েছে এক পাকিস্তানির। ঘটনাটি ঘটেছে দুবাইতে। এছাড়া সৌদি, কুয়েত, ইরাকেও হামলা চালিয়েছে ইরান।
{{/usCountry}}সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার বলছে, ইরানি মিসাইল হামলা তারা প্রতিহত করে দেয়। তবে মিসাইলের একটি ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক ট্যাক্সি চালকের মৃত্যু হয় দুবাইয়ের আল বর্ষা এলাকায়। সেই নিহত ট্যাক্সি চালক পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন বলে পরে জানানো হয়। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাইতে এখনও পর্যন্ত ৪ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে ২ জন পাকিস্তানি, একজন নেপলি এবং এক বাংলাদেশি। এছাড়া গতকাল ইরানি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ গিয়ে আছড়ে পড়ে দুবাইয়ের মরিনা টাওয়ারে। এর জেরে সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গিয়েছিল। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সৌদি আরব আবার দাবি করে, তারা ইরানের ১৪টি মিসাইলকে অকেজো করে দেয়। ইরান নাকি সৌদি আরবের কূটনীতিক এলাকায় হামলা চালিয়েছিল। ইরাকে আবার মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইরান। তবে সেই হামলা নাকি প্রতিহত করা হয়েছে। অপরদিকে কুয়েত বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাঙ্কে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালায় ইরান।
এই সবের মাঝেই আবার ইরানের তেলের সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ইরানের তেহরান এবং করাজ শহরে বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গিয়েছে। এদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাগচি অভিযোগ করেছেন, আমেরিকা নাকি পানীয় জলের প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে কেশম দ্বীপে। এর জেরে সেখানে ৩০টি গ্রাম পানীয় জলের অভাবে ভুগছে।