...
...
Next Story

Iran-US Conflict Latest Update: কূটনীতিককে ‘বহিষ্কার’? বড় দাবি করে কলার উঁচু আমেরিকার, ইরানের পালটা তোপ

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্য, আমেরিকা থেকে কোনও ইরানি কূটনীতিককে জোর করে বের করে দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নির্ধারিত সময় মেনেই দেশ ছেড়েছেন। আমেরিকার তরফে ‘বহিষ্কার’ বলে যে প্রচার চলছে, তাকে ‘ভুয়ো’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

Published on: Oct 5, 2026, 08:03:33 IST
Advertisement

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হতেই দুই ইরানি কূটনীতিককে আমেরিকা থেকে ‘বহিষ্কার’ করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি সরাসরি খারিজ করল তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্য, আমেরিকা থেকে কোনও ইরানি কূটনীতিককে জোর করে বের করে দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নির্ধারিত সময় মেনেই দেশ ছেড়েছেন। আমেরিকার তরফে ‘বহিষ্কার’ বলে যে প্রচার চলছে, তাকে ‘ভুয়ো’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্য, আমেরিকা থেকে কোনও ইরানি কূটনীতিককে জোর করে বের করে দেওয়া হয়নি। (AFP)
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্য, আমেরিকা থেকে কোনও ইরানি কূটনীতিককে জোর করে বের করে দেওয়া হয়নি। (AFP)

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই ইরানের রাষ্ট্রসংঘ মিশনকে পুরো প্রতিনিধিদলকে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন বিদেশ দফতর। কিন্তু দুই ইরানি কূটনীতিক নিউ ইয়র্কেই থেকে গিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। পরে ওয়াশিংটনের তরফে তাদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্কিন এক আধিকারিক অ্যাক্সিয়সকে জানান, দুজনকে শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন শুক্রবার রাতে নিউ ইয়র্ক ছাড়েন এবং অন্য জন শনিবার সকালে বেরিয়ে যান।

এই ঘটনাকেই আমেরিকা নিজেদের কড়া অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে। বিশেষ করে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানি প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে আগের নির্দেশ অমান্য করা মেনে নেবেন না, এমন বার্তাই দিয়েছেন বলে মার্কিন সূত্রের দাবি। ফলে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের টানাপড়েনে এই ঘটনা নতুন মাত্রা পায়।

ইরানের পালটা দাবি

কিন্তু ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, ‘বহিষ্কার’ বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা আসলে সাজানো প্রচার। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়া ইরানি কূটনীতিকদের প্রায় সবাই নির্ধারিত সময়েই আমেরিকা ছেড়েছেন। এক জন অবশ্য আগেই দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। তাই দুই কূটনীতিককে নিয়ে ‘বহিষ্কার’ শব্দটি ব্যবহার করাকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দেখছেন।

এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হলেও তা খুব বেশি দূর এগোয়নি। ইরানের তরফে দেওয়া একটি প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়েও দুই দেশের অবস্থান এখনও বিপরীত। ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলা হবে না।

ফলে দুই কূটনীতিকের নিউ ইয়র্ক ত্যাগের ঘটনাও নিছক প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে দেখছে না আন্তর্জাতিক মহল। এক পক্ষের দাবি, মার্কিন নির্দেশ অমান্য করার পর কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। অন্য পক্ষ বলছে, সবটাই ‘ভুয়ো বহিষ্কার’-এর গল্প।

কূটনৈতিক সংঘাতের নতুন ছবি

একদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর বার্তা, অন্য দিকে তেহরানের পাল্টা তোপ। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস যে কতটা গভীর, এই ঘটনাই যেন তার নতুন উদাহরণ। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে আলোচনার বদলে যদি ‘কে কাকে বের করে দিল’ তা নিয়েই বিবাদ বাড়তে থাকে, তা হলে ভবিষ্যতের শান্তি আলোচনাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, দুই ইরানি কূটনীতিককে আমেরিকা সত্যিই বহিষ্কার করেছিল কি না, তা নিয়ে দুই দেশের বক্তব্য এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন ক্রমেই প্রকাশ্য লড়াইয়ের রূপ নিচ্ছে। আর সেই লড়াইয়ে একটি ছোট ঘটনাও এখন বড় রাজনৈতিক বার্তার হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks