পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান শান্তি আলোচনা ২১ ঘণ্টা ধরে চললেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। আর এবার ইরান দাবি করেছে, আলোচনার সময় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি ফোন করেছিলেন মার্কিন প্রতিনিধিদের। এরপরই মাঝপথে আলোচনা লাইনচ্যুত হয়েছিল। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেন, 'বৈঠকে নেতানিয়াহু ভ্যান্সকে ফোন করেন। এরপরই আলোচনার ফোকাস মার্কিন-ইরান আলোচনা থেকে ইজরায়েলের স্বার্থের দিকে সরে যায়। তিনি বলেন, 'যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকা যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার টেবিলে সেটাই তারা অর্জন করার চেষ্টা করেছে।'

আরাগচি বলেন, ইরান সরল বিশ্বাসে আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং তার বিদায়ের আগে ভ্যান্সের ওই সংবাদ সম্মেলন অপ্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, ইরান তার দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রস্তুত। এদিকে আলোচনার মাঝে নেতানিয়াহু ভান্সকে ফোন করেছিলেন কি না, সেই বিষয়টি ওয়াশিংটন না নিশ্চিত করেছে না অস্বীকার করেছে। এর আগে আরাগচি বলেছিলেন, '৪৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল এটি। যুদ্ধ শেষ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সততার সাথে কাজ করেছে ইরান। কিন্তু যখন আমরা 'ইসলামাবাদ চুক্তি'র খুব কাছাকাছি ছিলাম, তখন আমাদের কাছে বড় দাবি উপস্থাপন করা হয়েছিল। দাবি পরিবর্তন করা হয়েছিল।'
এদিকে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, ইরান ভবিষ্যৎমুখী অনেক উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত ইরানের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা। গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, 'আলোচনার আগে আমি জোর দিয়ে বলেছিলাম যে আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ও উদ্দেশ্য রয়েছে। কিন্তু গত দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে আমরা অন্য পক্ষকে বিশ্বাস করি না।'
অপরদিকে ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে ভান্স বলেছিলেন, 'আমরা কোনও সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছি। আমরা আমাদের ‘লক্ষ্মণরেখার’ বিষয়ে ইরানকে জানিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া যায়, কোন বিষয়ে দেওয়া যায় না, সবটাই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না।'
{{/usCountry}}অপরদিকে ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে ভান্স বলেছিলেন, 'আমরা কোনও সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছি। আমরা আমাদের ‘লক্ষ্মণরেখার’ বিষয়ে ইরানকে জানিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া যায়, কোন বিষয়ে দেওয়া যায় না, সবটাই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না।'
{{/usCountry}}