আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে পারে ইরান এবং পাকিস্তান। এমনই দাবি করা হচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে। উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই আবহে আগামী ১৬ এপ্রিল ফের মুখোমুখি হতে পারেন ইরান এবং মার্কিন প্রতিনিধিরা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের রিপোর্টে বলা হয়, নতুন দফার আলোচনা নিয়ে এখনও কথাবার্তা চলছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন কূটনীতিক এপি-র কাছে নাকি দাবি করেছে, ইরান এবং আমেরিকা উভয় দেশই আলোচনায় বসতে সম্মত।

কোথায় এবং কখন আলোচনা হতে পারে? কূটনীতিক ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য ফের একবার ইসলামবাদের নাম নিয়ে চর্চা চলছে। এছাড়া জেনেভাকে (সুইজারল্যান্ড) সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। যদিও স্থান এবং সময় সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে সূত্রের ধারণা যে বৃহস্পতিবার আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আগেরবারের মতো এবারও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাই উভয় পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, এর আগে পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান শান্তি আলোচনা ২১ ঘণ্টা ধরে চললেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। আর এবার ইরান দাবি করেছে, আলোচনার সময় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোন কথা হয়েছিল মার্কিন প্রতিনিধিদের। এরপরই মাঝপথে আলোচনা লাইনচ্যুত হয়েছিল।
বৈঠক ব্যর্থ হওয়া নিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেন, 'বৈঠকে নেতানিয়াহু ভ্যান্সকে ফোন করেন। এরপরই আলোচনার ফোকাস মার্কিন-ইরান আলোচনা থেকে ইজরায়েলের স্বার্থের দিকে সরে যায়। তিনি বলেন, 'যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকা যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার টেবিলে সেটাই তারা অর্জন করার চেষ্টা করেছে।' আরাগচি বলেন, ইরান সরল বিশ্বাসে আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং তার বিদায়ের আগে ভ্যান্সের ওই সংবাদ সম্মেলন অপ্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, ইরান তার দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রস্তুত। এদিকে আলোচনার মাঝে নেতানিয়াহু ভান্সকে ফোন করেছিলেন কি না, সেই বিষয়টি ওয়াশিংটন না নিশ্চিত করেছে না অস্বীকার করেছে। এর আগে আরাগচি বলেছিলেন, '৪৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল এটি। যুদ্ধ শেষ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সততার সাথে কাজ করেছে ইরান। কিন্তু যখন আমরা 'ইসলামাবাদ চুক্তি'র খুব কাছাকাছি ছিলাম, তখন আমাদের কাছে বড় দাবি উপস্থাপন করা হয়েছিল। দাবি পরিবর্তন করা হয়েছিল।'
অপরদিকে ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে ভান্স বলেছিলেন, 'আমরা কোনও সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছি। আমরা আমাদের ‘লক্ষ্মণরেখার’ বিষয়ে ইরানকে জানিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া যায়, কোন বিষয়ে দেওয়া যায় না, সবটাই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না।'
{{/usCountry}}অপরদিকে ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে ভান্স বলেছিলেন, 'আমরা কোনও সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছি। আমরা আমাদের ‘লক্ষ্মণরেখার’ বিষয়ে ইরানকে জানিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া যায়, কোন বিষয়ে দেওয়া যায় না, সবটাই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না।'
{{/usCountry}}