মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হল, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা এখন অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মতো বেশ কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই মূলত আলোচনা এগোচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সম্মতি দেননি এই চুক্তির পক্ষে। তিনি বলেন, এই নিয়ে ভাবতে তাঁর দু'দিন লাগবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতিতে বড়সড় বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিকে ইরানে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান চাইছে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কারণ হেজবোল্লাহ এবং ইজরায়েলের সংঘর্ষ এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। যদিও আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম ধাপে ৬০ দিনের একটি সংঘাতবিরতির কাঠামো তৈরির দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, ইরান যদি ওই এলাকায় নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করে এবং মাইন সরানোর মতো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল হতে পারে।
তবে এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয় হয়ে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে তারা শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়। এই মতপার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে।
{{/usCountry}}তবে এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয় হয়ে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে তারা শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়। এই মতপার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে।
{{/usCountry}}