গোটা বিশ্বই যেন বর্তমানে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ইসালামাবাদে মার্কিন-ইরান আলোচনায় অনিশ্চয়তা ছিল গতকাল পর্যন্ত। তবে দীর্ঘ টালবাহানার পরে পাকিস্তানে গিয়ে পৌঁছেছেন ইরানের প্রতিনিধি দল। যদিও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে তারা শর্ত চাপিয়েছেন ইরানিরা। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসলেও তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। এদিকে আলোচনা 'সফল' না হলে আবার ইরানের ওপর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবার আশা প্রকাশ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী খুব শীঘ্রই খুলে যাবে।

জানা গিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল গতকাল রাতে পাকিস্তানে এসে পৌঁছায়। সেই দলে আছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর এবং ইরানের আরও বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। এই প্রতিনিধিদলকে নূর খান ঘাঁটিতে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। এদিকে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই আলোচনায় আমেরিকার তরফ থেকে হাজির থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামা জ্যারেড কুশনার।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি গুরুত্ব পাবে। তাঁর কথায়, '(ইরানের) কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারবে না। এটাই আলোচনার ৯৯ শতাংশ।' এর আগে ইরানিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'ইরানিরা বুঝতে পারছে না যে তাদের হাতে কোনো তুরুপের তাস নেই। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক জলপথকে ব্যবহার করে স্বল্পমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করতে পারবে তারা। তারা আজ বেঁচে আছে শুধু আলোচনা করার জন্য।' এই আবহে আলোচনা সফল না হলে আমেরিকা ফের একবার ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীনই সেই দেশে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।