ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওমানেই। তবে এই আলোচনার মাঝেই ক্রমেই ইরানের ওপর মার্কিন হামলার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। তবে এই সবের মধ্যে ইতিবাচক আপডেট দিলেন ওমানের বিদেশমন্ত্রী বদল আলবুসাইদি। তিনি দাবি করলেন, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শীঘ্রই শান্তি চুক্তি হতে পারে। এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, কূটনীতি ছাড়া বিকল্প কোনও পথে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।'

ওমানের বিদেশমন্ত্রী দাবি করেন, ইরান কখনও কোনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। এদিকে ইরান তাদের পরমাণু প্রকল্পের যাচাই করতে দেবে। শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে দাবি করেন বদর আলবুসইদ। তিনি ইরান এবং আমেরিকার হয়ে আলোচনা করা কর্তাদের সমর্থনের বার্তা দেন। এদিকে তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করে ইরান-মার্কিন আলোচনার আপডেট দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ফের একবার আলোচনার টেবিলে বসেছিল ইরান এবং আমেরিকার। তবে তারই মধ্যে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা যেন ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস একটি পরমার্শমূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভারতীয়দের ইরান ছাড়তে বলেছে। এর আগে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় গত জানুয়ারিতেও ইরানে থাকা ভারতীয়দের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা রয়েছে বর্তমানে। আমেরিকার দু'টি বিমানবাহী রণতরী, শতাধিক যুদ্ধবিমান, এক ডজন যুদ্ধজাহাজ আছে ইরানের কাছাকাছি। ওপেন সোর্স ট্র্যাকিং দেখা গিয়েছে যে, ১৫০টিরও বেশি কার্গো ফ্লাইট অস্ত্র এবং গোলাবারুদ বহন করে নিয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। বেশ কয়েকটি এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ওই এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে। এরই সঙ্গে বেশ কয়েকটি জ্বালানী ভরানোর ট্যাঙ্কার বিমানও দেখা গেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা সৈনিকদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেখান থেকে। মার্কিন হামলা হলে ইরানের পালটা জবাবের আশঙ্কাতেই এই পদক্ষেপ আমেরিকা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মাঝে মার্কিন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন ইরানকে। পালটা হুঁশিয়ারি শোনা যাচ্ছে ইরানের তরফ থেকেও। সঙ্গে আলোচনা সফল করার বার্তাও দিচ্ছে তেহরান।